Print Date & Time : 29 June 2022 Wednesday 12:47 am

হাই প্র্রোফাইল কোম্পানির শেয়ার চাহিদায় ভাটা

 

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে দামি শেয়ারের চাহিদা কমছে। প্রতিদিন লেনদেন কমছে এসব শেয়ারের। দামের হিসাবে শীর্ষ ১০ কোম্পানির লেনদেন নেই বললেই চলে। গত বৃহস্পতিবার  বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে দুই কোটি ১২ লাখ, বারাকা পাওয়ার লিমিটেডের এক কোটি ৯৭ লাখ। অথচ বার্জার পেইন্টসের ৫০টি, রেকিট বেনকিজারের ১০০টি শেয়ার লেনদেন হয়।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, দামি শেয়ারের কোম্পানির বেশিরভাগ শেয়ারই অতিমূল্যায়িত। তাছাড়া এসব কোম্পানি লভ্যাংশের পরিমাণ বেশি হলেও প্রকৃত মুনাফা (ইল্ড) খুব কম। সেজন্য এসব কোম্পানি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে চান তারা।

সম্প্রতি যেসব কোম্পানির শেয়ারের চাহিদায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, বার্জার পেইন্টস, গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন, রেকিট বেনকিজার, স্টাইলক্র্যাফট, লিন্ডে বিডি, ইস্টার্র্ন লুব্রিকেন্টস, বাটা সু, রেনেটা ও ম্যারিকো বাংলাদেশ। গত বৃহষ্পতিবার গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইনের শেয়ার লেনদেন হয় ৭৫৩টি। আর বস্ত্র খাতের স্টাইলক্র্যাফটের শেয়ার লেনদেন হয় এক হাজার ১০১টি। অন্য কোম্পানির ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার কেনাবেচা হয় এক হাজার ৩৫১টি। একইভাবে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টেসের শেয়ার কেনাবেচা হয় তিন হাজার ৮০টি। অন্যদিকে লিন্ডে বিডির মাত্র পাঁচ হাজার ১৮৬টি শেয়ার লেনদেন হয়। আর ওষুধ খাতের রেনেটার শেয়ার লেনদেন হয় আট হাজার ৭০৩টি। চাহিদা ছিল না বাটা সু কোম্পানির শেয়ারেরও। এ কোম্পানিটি মোট ১০ হাজার ৭২২টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন করে। একইভাবে ম্যারিকো বাংলাদেশের শেয়ার লেনদেন হয় পাঁচ হাজার ৭৯১টি। এদিকে উল্লিখিত সব কোম্পানির শেয়ারের দরই এক হাজার টাকা ওপরে। উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন দর ম্যারিকোর। দিন শেষে এ শেয়ার এক হাজার ২১ টাকায় লেনদেন হয়। আর সর্বোচ্চ দরে বিক্রি হয় ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার। এ শেয়ার লেনদেন হয় দুই হাজার ৫১১ টাকায়।

ভালো লভ্যাংশ দেওয়ার পরও এসব শেয়ারের চাহিদা না থাকার নেপথ্য জানা যায় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। তাদের অভিমত এসব শেয়ারের চাহিদা না থাকার প্রধান কারণ এসব শেয়ারের দর অনেক বেশি। দর বেশি থাকায় এ শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হলে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। এজন্য এখানে ঝুঁকিও বেশি থাকে। ফলে ঝুঁকি এড়িয়ে চলতেই তারা এসব কোম্পানি থেকে দূরে থাকেন। এ প্রসঙ্গে কামরুল ইসলাম নামে এক বিনিরেয়াগকারী বলেন, বাজারে এসব কোম্পানির শেয়ারসংখ্যা কম। আর শেয়ারসংখ্যা কম থাকার কারণেই অধিকাংশ শেয়ারই অতিমূল্যায়িত। যে কারণে আমি এসব কোম্পানির পেছনে ছোটাছুটি করি না। কারণ অতিমূল্যায়িত শেয়ারের বিনিয়োগ মানেই ঝুঁকি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো সর্বশেষ শেয়ারহোল্ডারদের ৫৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দিলেও প্রকৃত মুনাফা হয়েছে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। একইভাবে বার্জার পেইন্টস লভ্যাংশ দেয় ৩৭০ শতাংশ। কিন্তু প্রকৃত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। একইভাবে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের ৫৫০ শতাংশ লভ্যাংশের বিপরীতে প্রকৃত মুনাফা ৩ দশমিক শূন্য ছয়। রেকিট বেনকিজারের ৬৫০ শতাংশের বিপরীতে ৪ দশমিক শূন্য চার ও স্টাইলক্র্যাফটের ৭৫ শতাংশ লভ্যাংশের বিপরীতে প্রকৃত মুনাফা দাঁড়িয়েছে দশমিক ৬৭ শতাংশ। এছাড়া লিন্ডে বিডির ৩১০ শতাংশে প্রকৃত মুনাফা ২ দশমিক ৭২, ইস্টার্র্ন লুব্রিকেন্টের ৩০ শতাংশে বিপরীতে দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বাটা সুর ৩২০ শতাংশ লভ্যাংশে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রেনেটার ১০০ শতাংশ লভ্যাংশের বিপরীতে দশমিক ৭২ শতাংশ এবং ম্যারিকোর ৪৫০ শতাংশের বিপরীতে ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রকৃত মুনাফা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত মুনাফা কমে যাওয়া এসব শেয়ারের চাহিদা কমে যাওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের কোম্পানির সচিব নিজাম উদ্দীন শেয়ার বিজকে বলেন, পুঁজিবাজারের শেয়ারের দর বাড়ছে না কমছে সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। তবে এতটুকু বলতে পারি, আমাদের কোম্পানিতে ইনভেস্টরের সংখ্যা বেশি। তারা শেয়ার বিক্রি করতে চান না। সেজন্য দৈনিক কেনাবেচা কম হয়। তিনি বলেন, আমাদের শেয়ারের ৮২ শতাংশই রয়েছে পরিচালকদের কাছে। বাকি শেয়ারের সিংহভাগই রয়েছে আইসিবির কাছে। সেটা বাদ দিলে শেয়ারসংখ্যা থাকে ৭ শতাংশের মতো। অর্থাৎ বাজারে শেয়ারসংখ্যা কম। সে কারণে কেনাবেচা কম হতে পারে।

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, এসব শেয়ারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কম হয়। এর কারণ হচ্ছে, কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করতে গেলে তাদের অনেক বেশি টাকা লাগে। তাছাড়া এসব শেয়ার রিটার্ন অব ইনভেস্ট অর্থাৎ প্রকৃত মুনাফা কম। শেয়ারগুলো অতিমূল্যায়িত কি না, এমন প্রশ্নের জাববে তিনি বলেন, মার্কেটে এ ধরনের কোম্পানির আরও আসা দরকার। সেটা নেই বলেই এসব শেয়ারের দর বেশি। যত দিন না সেটা হচ্ছে তত দিন এমনিতেই এসব শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে থাকবে।