দিনের খবর সারা বাংলা

হাজারো মালিক-শ্রমিক বেকার

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষীপুর: করোনার প্রভাবে সামাজিক অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক সব ধরনের ডেকোরেশন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে ডেকোরেটররা পড়েছেন বেকায়দায়। শুধু ডেকোরেটরাই নন, আলোকসজ্জা, সাউন্ড সিস্টেম, ফুল ব্যবসা ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোয়ও পড়েছে এর প্রভাব। ল²ীপুর জেলায় এ ব্যবসা ও পেশার সঙ্গে জড়িত প্রায় পাঁচ হাজার মালিক, শ্রমিক ও কর্মচারী সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনেকের মালামালও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য বিকল্প পেশা খুঁজছেন অনেকেই। লক্ষীপুরের কয়েকজন ডেকোরেটর ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, অনেকেই ধারদেনা করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কবে নাগাদ এ ব্যবসা আবার চাঙা হবে, তা জানা নেই কারও। ফলে বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। বিয়ের গেট তৈরির শিল্পী রহিম মিয়া জানান, পুরো বেকার হয়ে গেছেন তিনি। আগে দৈনিক এক হাজার টাকা আয় হলেও এখন অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আয়-রোজগার কিছুই নেই তার। অভাব-অনটনে দিন কাটছে বলেও জানালেন তিনি।

স্থানীয় কাশেম ডেকোরেটর অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেমের মালিক আবুল কাশেম জানান, তার দোকানের ৩০ কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেকার। দোকানে পড়ে থাকা বিভিন্ন কাঠের পণ্য নষ্ট হওয়ার পথে। তার এ ব্যবসা থেকে শুধু মাসে কর্মচারীদের বেতন দিতেন তিন লাখ টাকা। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে অনুষ্ঠান হচ্ছে অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশে। ফলে তাদের এ ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

সদর উপজেলার মতিন ডেকোরেটরের মালিক আবদুল মতিন জানান, তার প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন গড়ে তিন-চারটি অনুষ্ঠানে কাজ করত। প্রতিদিন প্রায় ৫০ শ্রমিক ও বাবুর্চি এ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, কিন্তু এখন সবাই বেকার। অলস পড়ে আছে তার ১৫ লাখ টাকার মালামাল।

অপরদিকে শহরের রক্সি সাউন্ড সিস্টেমের মালিক মো. হাসান জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সাউন্ড সিস্টেম ও লাইটিংয়ের মালামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উল্টো দোকান ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে তার। এখন পরিবার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ল²ীপুর শহরের পুষ্পবন ফুল বিতানের মালিক অধ্যাপক কার্তিক সেন গুপ্ত বলেন, ফুল ব্যবসাসহ গেট, মঞ্চসজ্জা, গাড়ি সাজানো, বাসর সাজানো কিছুই নেই। গত বছরের মার্চ মাস থেকে তার ব্যবসা বন্ধ। বিভিন্ন দিবসেও ফুল বিক্রি তেমন নেই। সামনে ব্যবসা চলবে কি না জানেন না তিনি।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, বিয়ে, গায়েহলুদ, জš§দিন, আকিকা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান, অফিস পার্টি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ডেকোরেটর, সাউন্ড সিস্টেম ও লাইটিংয়ের চাহিদা থাকে। কিন্তু মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য এ ব্যবসা একেবারে বন্ধ রয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। রামগঞ্জ উপজেলার রকি ডেকোরেটরের মালিক মো. বিল্লাল হোসেন জানান, সামাজিক অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা, সাউন্ড সিস্টেম, ফুল ব্যবসা ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোর ব্যবসায় ভাটা পড়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষীপুর জেলা ডেকোরেটর মালিক সমিতির সভাপতি ও আলাউদ্দিন ডেকোরেটরের মালিক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘জেলায় ছোট-বড় প্রায় ৩০০ ডেকোরেটরে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া দেড়শ সাউন্ড সিস্টেম ও আলোকসজ্জার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। করোনার প্রভাবে ব্যবসা না চলায় সবাই এখন বেকার হয়ে পড়েছেন।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্তকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, অন্যান্য পেশার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে। এসময় ডেকোরেটরদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..