সারা বাংলা

হাজীগঞ্জের বিএডিসি ভবন যেন ভূতের বাড়ি

কাগজে-কলমে প্রকল্পের শতভাগ অগ্রগতি

বেলায়েত সুমন, চাঁদপুর: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উপ-সহকারী প্রকৌশলীর (ক্ষুদ্র সেচ) কার্যালয় ভবনটি যেন ভূতের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। হঠাৎ এখানে প্রবেশ করলে এমনটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক। সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় ওঠার সময় চোখে পড়ে গাছের শেকড়ে আচ্ছাদিত ভবনের দেয়াল। একটু ওপরে উঠলেই দেখা যাবে পলেস্তারা খসে ভবনের ছাদের রড দেখা যাচ্ছে। এরপর পশ্চিম দিকে গেলেই চোখে পড়বে যেন শীতলপাটি দিয়ে ভবনের জানালা মেরামত করা হয়েছে। পাশে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কক্ষ। দেখলে মনে হবে যুগ যুগ ধরে এই কক্ষে কারও যাতায়াত নেই।

মাকড়সার জাল আর ধুলোবালিতে ঠাসা কক্ষটিতে বসেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে হাজীগঞ্জের লাখো কৃষকের ভাগ্য। ভবনটির নানা কক্ষের ছাদেও পলেস্তরা খসে খসে পড়ায় এবং বাইরের দেয়ালে ফাটল ধরায় ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত পুরনো বিএডিসি ভবনটির সব কক্ষের একই অবস্থা দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ভবনটি নির্মিত হয়েছে সত্তরের দশকে। এরপর আজ পর্যন্ত ভবনটির সংস্কার করা হয়নি। ফলে ওই ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায়ও ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি বলে বিএডিসি উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাজীগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। যে কোনো সময় ভবন ধসসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিএডিসির বিদ্যমান পুরনো অফিস ভবন ও অন্য অবকাঠামো সংস্কার আধুনিকায়ন এবং নির্মাণের মাধ্যমে কাজের পরিবেশ উন্নয়নসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিকরণ এবং অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিএডিসি অফিস ভবন ও অবকাঠামোগুলোর সংস্কার, আধুনিকীকরণ ও নির্মাণ প্রকল্প চালু হয় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি বিভাগের ৬৩ জেলার ১৬৫ উপজেলার মধ্যে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের এ বিএডিসি ভবনের অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি, কিন্তু কাগজে-কলমে বার্ষিক কাজের ভৌত অগ্রগতি দেখানো হয়েছে শতভাগ।

মাঠপর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অফিস ভবন ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়িয়ে ক্ষুদ্র সেচ কার্যক্রম তদারকি জোরদারকরণ, সীমানা প্রাচীর সংস্কার ও নির্মাণ করে বিএডিসির সম্পদ দখলমুক্ত রাখা ও সংরক্ষিত সেচ যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত করার কথা থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি হাজীগঞ্জে। রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে বাইরে ফেলে রাখা কৃষি যন্ত্রপাতি।

এছাড়া খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সেচসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের পরিচালনা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ, পরিবীক্ষণ, অগ্রগতি তদারকি সহজীকরণ এবং সেচ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা, মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পাসগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন ও যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে পুকুর সংস্কার, বৃক্ষরোপণ ও আনুষঙ্গিক কাজ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দারিদ্র্য বিমোচনের কথা রয়েছে। তবে হাজীগঞ্জের বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) মো. মামুনুর রশিদ বলেন, এ প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানি না আমি। আপনি জেলায় কথা বলেন। ভূমিকম্প আতঙ্কসহ ভবনধসের ঝুঁকি নিয়েই পরিত্যক্ত এ ভবনে বসে চাকরি করছি। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নিরুপায় হয়ে এ ভবনে কাজ করতে হচ্ছে। ভবনটির সব কক্ষের প্লাস্টার খুলে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। এতে অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হয়।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালাক মো. জয়নাল আবেদিনেন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি প্রথমে প্রকল্প সম্পর্কে জেনে কথা বলতে রাজি হননি। পরবর্তীকালে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..