হাবিপ্রবির আবাসিক হলে খাবারে ভর্তুকি চান শিক্ষার্থীরা

মো. রুবাইয়াদ ইসলাম, হাবিপ্রবি (দিনাজপুর): হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ২৩ বছরে পদার্পণ করলেও আবাসিক হলগুলোয় নেই খাবারে ভর্তুকি। খাবারের অতিরিক্ত দামের কারণে বেশিরভাগ সময় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

জানা গেছে, হাবিপ্রবিতে ছেলেদের জন্য চারটি এবং মেয়েদের তিনটি হল রয়েছে। ভর্তুকি না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতি বেলার খাবারের জন্য ৩৫ টাকা বা তার বেশি অর্থ গুনতে হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিংয়ে দুই বেলা খাবার পাওয়া গেলেও সকালের নাস্তা ক্যান্টিনে নিজস্ব খরচে করতে হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বরাদ্দ না থাকায় হলগুলোয় ভালো খাবার পরিবেশন করা হয় না।

ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিরাজুম মুনিরা মোহনা বলেন, আমাদের হলের ডাইনিংয়ে খাবারে ভর্তুকি দেয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব খরচে খাবার কিনে খেতে হয়। এমতাবস্থায় হলের ডাইনিংয়ে দুইবেলা খাবারের দাম বেশি হওয়ায় অনেকের বেশ সমস্যা হয়। যদি হল প্রশাসন থেকে খাবারের জন্য ভর্তুকি বাবদ কিছু বরাদ্দ দেয়া হতো তাহলে ডাইনিংয়ে খাবারের দাম কিছুটা হলেও কমে আসত। এতে আমরা সবাই উপকৃত হতাম।

তাজউদ্দীন আহমেদ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তানভীর হাসান সৌরভ বলেন, আমরা যারা হলে থাকি তাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নি¤œবিত্ত পরিবারের। খাওয়া-দাওয়া বাবদ যদি হল প্রশাসনের মাধ্যমে ভর্তুকি দেয়া হতো তাহলে হয়তো আমরা আরও কম দামে ভালো খাবার খেতে পারতাম। এছাড়া খাবারের জন্য ভর্তুকি দেয়া হলে আমাদের আর্থিক অসচ্ছলতা কমে আসত। বর্তমানে আমাদের হলে একদিন খাওয়া দাওয়া করার জন্য দুপুর ও রাতের খাবারের বিনিময়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা খরচ করতে হয়, যা একজন নি¤œবিত্ত পরিবারের ছেলের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে, আমাদের হলের যাবতীয় সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি খাবারের জন্য ভর্তুকি দিলে আমরা উপকৃত হব।

হাবিপ্রবির ডরমিটরি-২ হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপাতত হলের ডাইনিংয়ে খাবারের জন্য কোনো ভর্তুকির ব্যবস্থা নেই। যার কারণে হল প্রশাসন থেকে খাবারের ভর্তুকি দেয়া অসম্ভব।

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আর্থিক অসচ্ছলতার কথা আমার জানা আছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে অর্থ বরাদ্দ পেলে সম্ভব। বিষয়টি আমার নজরে থকলো এবং পরবর্তীকালে এ নিয়ে আলোচনা হলে আমি শিক্ষার্থীদের জন্য কথা বলব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯২  জন  

সর্বশেষ..