সারা বাংলা

হারিয়ে যাওয়া উঠান ঢেঁকি ফিরছে বিয়েবাড়িতে

রফিক মজিদ, শেরপুর: গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য উঠান ঢেঁকি  হারাতে বসেছে। কয়েক বছর আগেও গ্রামবাংলার প্রতিটি পরিবারের উঠানে বা বাড়ির আঙিনায় জাঁতা বা ঢেঁকি দ্বারা ধানে পাড় দিয়ে ধান ভানা হতো। কিন্তু সেই প্রাচীন ধারায় ধান ভানার প্রচলন এখন আর নেই বললেই চলে। এই উঠান ঢেঁকিতে শুধু ধান মাড়াই নয়, হলুদ-মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের মসলাও বাটা হতো।

এই উঠান ঢেঁকিতে একজনই দাঁড়িয়ে ধান থেকে চাল তৈরির কাজ করতে পারত। আবার এই ঢেঁকি ছোট আকারে তৈরি করে সেটি দিয়ে পান বা বিভিন্ন মসলা বাটার কাজও করা হতো। সেটি হাম্বল দিস্তা হিসেবেই পরিচিত। তবে হাম্বল দিস্তাটি একটু বড় এবং এর লাঠি একটু লম্বা হতো। এতে মেয়েরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যবহার করতে পারে।

তবে এরপর একটু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আসে পাত ঢেঁকি বা পা দিয়ে ব্যবহার করা ঢেঁকি। বর্তমানে উঠান ঢেঁকি ও পাত ঢেঁকি উভয়ই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে। যদিও গ্রামেগঞ্জে কোনো কোনো স্থানে পাত ঢেঁকি বা পা দিয়ে মাড়াই করা ঢেঁকি এখনও দেখতে পাওয়া যায়, তবে তা খুবই বিরল। আধুনিক মাড়াই যন্ত্রের ভিড়ে এসব প্রাচীন কালের মাড়াই যন্ত্র বিলুপ্তির তালিকায় রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামবাংলার বিভিন্ন বাড়িতে এ ধরনের উঠান ঢেঁকির দেখা মিলছে। সম্প্রতি শেরপুর জেলা শহরের রঘুনাথ বাজার এলাকায় একটি হিন্দু বাড়ির বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য হলুদ বাটায় ব্যবহার করতে

দেখা যায় এ ধরনের ঢেঁকি। এ সময় বিয়েবাড়িতে গায়ে হলুদ দিতে আসা নারীরা বেশ মজা করে হলুদ বেটে বরের গায়ে হলুদ দিয়ে অনুষ্ঠান পালন করেন।

এ বিষয়ে ওই বরের বড় ভাই পরিবহন ব্যবসায়ী শুভ্র রায় বলেন, আধুনিক যুগে ঢেঁকির প্রচলন না থাকলেও আমার বাড়ির মেয়েরা অনেক খুঁজে পাত ঢেঁকি না পেয়ে ওই উঠান ঢেঁকি বা হাম্বল দিস্তাটি সংগ্রহ করে। এতে বিয়েবাড়িতে বাড়তি আনন্দের যোগ হয়। আমাদের সমাজব্যবস্থায় আমরা আজ আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাবা-দাদাদের প্রথা বা রীতিনীতি হারিয়েই ফেলছি। তাই কিছুটা হলেও সেই পুরোনো কৃষ্টি পালনের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..