স্পোর্টস

হার এড়াতে পারবে তো বাংলাদেশ?

ক্রীড়া প্রতিবেদক: রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবীর স্পিন তোপে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই ব্যাকফুটে ছিল বাংলাদেশ। তারপরও দলটি আশায় বুক বেঁধেছিল মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও তাইজুল ইসলামের ব্যাটে ভর করে। গতকাল অবশ্য তারা হতাশ করলেও বল হাতে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে টাইগারদের পথ দেখিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু পরে ইব্রাহিম জাদরান ও আজগর আফগানের ব্যাটিংয়ে ফের হতাশ করেছে স্বাগতিকরা। আর তাতে চলতি এ টেস্টে হারের মুখে পড়েছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা।
আফগানদের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪২ রানের জবাবে গতকাল বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ২০৫ রানে। ১৩৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারীরা চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে গতকাল ৮ উইকেটে তুলেছে ২৩৭ রান। তার মানে, সফরকারীরা এখন সাকিবদের চেয়ে এগিয়ে ৩৭৪ রান। আজ নিশ্চয়ই রশিদ খানের দল যতটা সম্ভব লিড বাড়িয়ে নেবে। তাতে আরও চাপ বাড়বে স্বাগতিক শিবিরে।
গতকাল দিনের প্রথম ওভারেই তাইজুল ইসলাম ফেরেন সাজঘরে। তবে এক প্রান্ত আগলে চেষ্টা করেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে থাকা নাঈম হাসান পারেননি খুব একটা সঙ্গ দিতে। যে কারণে টাইগারদের ইনিংস স্থায়ী হয় মাত্র ১৭ মিনিট। তাতে আগের দিনের ১৯৪ রানের সঙ্গে যোগ হয় মাত্র ১১ রান। মোসাদ্দেক ৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। আফগানদের হয়ে রশিদ খান নেন ৫৫ রানে ৫ উইকেট। এ নিয়ে এ লেগি টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার দেখা পান ৫ উইকেটের।
১৩৭ রান পেছনে থেকে গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের বোলিংয়ের শুরুটা হয় দুর্দান্ত। সাকিব আল হাসান নিজের প্রথম ওভারেই আফগান ওপেনার ইহসান উল্লাহকে এলবিডব্ল–র ফাঁদে ফেলে ফেরান। পরের বলেই রহমত শাহকে নিজের বলে ক্যাচে পরিণত করে ফেরান। এর কিছুক্ষণ পরই নাঈম হাসান দারুণ এক অ্যাঙ্গেল ডেলিভারিতে সিøপে সৌম্য সরকারের ক্যাচে সাজঘরের পথ দেখান প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান হাসমত উল্লাহ শাহেদিকে। সে সময় সফরকারীদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২৮। যে কারণে টাইগার ভক্তরা আশা করেছিলেন, লিড ২৫০-এর মধ্যে রাখবেন সাকিবরা। তবে তাদের ধারণা দ্রুতই ভুল প্রমাণ করে দেন আজগর আফগান ও ইব্রাহিম জাদরান। চতুর্থ উইকেটে এ দুই ব্যাটসম্যান স্বাগতিক স্পিনারদের কোনো পাত্তা না দিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন। তাতে চাপ বাড়ে টাইগারদের। শেষ পর্যন্ত এ জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাস। বিপজ্জনক আজগরকে উইকেটের পেছনে সাকিবের ক্যাচে পরিণত করেন। তার আগে স্বাগতিকদের যা সর্বনাশ করার, তা করে দেন আজগর। চতুর্থ উইকেটে ইব্রাহিমকে নিয়ে তিনি গড়েন ১০৮ রানের জুটি। তার মধ্যে আজগরের অবদান ছিল ৪টি চার ও দুই ছয়ে ৫০ রান।
আজগর ফিরলেও টাইগারদের গলার কাঁটা হয়ে ছিলেন ইব্রাহিম। এ ডানহাতি গতকাল যেন স্বাগতিকদের স্পিন দেখছিলেন ফুটবলের মতো। তাইতো আফসার জাজাইকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৩৫ রানের জুটি। তাতে আফগানদের লিড পেরিয়ে যান ৩০০। সে সময় ইব্রাহিম ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। শেষ পর্যন্ত তাকে সীমানায় মুমিনুলের ক্যাচে থামান নাঈম হাসান। এরপর দিনের বাকিটা সময় সাকিবদের জ্বালান আফসার। রশিদ খানের সঙ্গে সপ্তম ও কায়েস আহমেদের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ছোট কিন্তু কার্যকরী জুটি গড়ে লিড বাড়াতে থাকেন। দিন শেষে তিনি অপরাজিত রয়েছেন ৩৪ রানে।
বাংলাদেশের সফল বোলার সাকিব। এ বাঁহাতি স্পিনার নিয়েছেন ৫৩ রানে ৩ উইকেট। এদিকে তাইজুল ও নাঈম পকেটে পোরেন দুটি করে উইকেট।
ঘরের মাঠে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৪১৩ রান। সেটি এক যুগ আগে ঢাকায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সে ম্যাচে ৫২১ রান তাড়া করে হেরেছিল স্বাগতিক দল। তাই চট্টগ্রাম টেস্টে টাইগারদের হারের শঙ্কা ভর করেছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস: ৩৪২
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২০৫ (আগের দিন ১৯৪/৮) (সাদমান ০, সৌম্য ১৭, লিটন ৩৩, মুমিনুল ৫২, সাকিব ১১, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৭, মোসাদ্দেক ৪৮*, মিরাজ ১১, তাইজুল ১৪, নাঈম ৭; ইয়ামিন ১০-২-২১-১, নবী ২৪-৬-৫৬-৩, জহির ৯-১-৪৬-০, রশিদ ১৯.৫-৩-৫৫-৫, কাইস ৮-২-২২-১)।
আফগানিস্তান ২য় ইনিংস: ৮৩.৪ ওভারে ২৩৭/৮ (ইহসানউল্লাহ ৪, ইব্রাহিম ৮৭, রহমত ০, শহিদি ১২, আসগর ৫০, আফসার ৩৪*, নবি ৮, রশিদ ২৪, কাইস ১৪, ইয়ামিন ০*; সাকিব ১৬-৩-৫৩-৩, মিরাজ ১২-৩-৩৫-১, তাইজুল ২৪.৪-৫-৬৮-২, নাঈম ১৭-২-৬১-২,
মুমিনুল ১০-৬-১৩-০, মোসাদ্দেক ৪-১-৩-০)।

সর্বশেষ..