প্রতিনিধি, হিলি (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে কমেছে আমদানি-রপ্তানি। ফলে দেখা দিয়েছে রাজস্ব ঘাটতি। দুই মাস আগেও যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ ভারতীয় ট্রাকে পণ্য আমদানি হতো, সেটি বর্তমান কমে দিনে গড়ে আমদানি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ ভারতীয় ট্রাক। আমদানি কমায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারকরা জানান, পানামা পোর্টের অব্যবস্থাপনার কারণে আমদানিকারকরা ভারী মেশিন বা যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারছেন না। এছাড়া হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানি করতে না পারায় একদিকে আমদানি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। তাই সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আমদানিকারকরা বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যদি ফল আমদানি করা যেত, তাহলে আমদানিটা যেমন বাড়ত, তেমনি সরকার বেশি রাজস্ব পেত।
আমদানি রপ্তানিকারকদের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দেশের দ্বিতীয় বন্দর। এখান থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে কিছুদিন থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি অনেকটাই কমে গেছে, যার কারণে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দুই মাস আগেও যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ ভারতীয় ট্রাক পণ্য আমদানি হতো, সেটি বর্তমান কমে দিনে গড়ে আমদানি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ ভারতীয় ট্রাক। আমদানি কমায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
আমদানিকারকরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে আমদানিটা কমে গেছে। বিশেষ করে পানামা পোর্টের পরিচালনা ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে আমদানিকারকরা ভারী মেশিন বা যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারছেন না। কেননা লোড-আনলোডের সমস্যা, ইকুপমেন্ট যেগুলো দরকার সেগুলো পর্যাপ্ত নেই, যার কারণে আমদানিকারকরা নিরুসাহিত হয়ে অন্য বন্দর ব্যবহার করে। তাছাড়া বর্তমানে আমদানি বন্ধ থাকায় কমে গেছে চাল আমদানি। তারা আরও বলেন, এখানকার রাস্তাঘাটের অব্যবস্থাপনার কারণেও আমদানিটা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে হিলির ব্যবসায়িক থেকে শুরু করে শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালকÑসবার আয়ে ভাটা পড়েছে। তাই সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আমদানিকারকরা বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যদি ফল আমদানি করা যেত, তাহলে আমদানিটা যেমন বাড়ত তেমনি সরকারের রাজস্বটাও বৃদ্ধি পেত।
অক্টোবর মাসে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ২ হাজার ২১০ ভারতীয় ট্রাকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। এতে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা, তা থেকে আমদানি কমিয়ে নভেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৮২৬ ট্রাকে ৬৮ হাজার মেট্রিকটন পণ্য, যা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৩ কোটি টাকা।
কয়েকজন শ্রমিক বলেন, এদিকে হিলি বন্দরে কাজকর্ম না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন শ্রমিকরা। তারা জানান, আগে যেক্ষেত্রে দিনে ৫০০ টাকার কাজ করতেন, সেক্ষেত্রে এখন আমদানি কমে যাওয়ায় তা এখন দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হচ্ছে। এতে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব বিপদে আছি। এছাড়া এনজিওর কিস্তি দিতে পারছি না আমরা।
হিলি শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এম আর জামান বাঁধন বলেন, হিলি শুল্ক স্টেশনে অক্টোবর মাসে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ২ হাজার ২১০ ভারতীয় ট্রাকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। এতে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা, তা থেকে আমদানি কমে নভেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৮২৬ ট্রাকে ৬৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য, যা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৩ কোটি টাকা।
প্রিন্ট করুন


Discussion about this post