সারা বাংলা

হিলিতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

ছামিউল ইসলাম আরিফ, হিলি (দিনাজপুর): আর মাত্র কয়েকদিন পর মুসলমানদের সবচয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় ধাপের লকডাউনে মার্কেট খোলার অনুমতি পেয়ে জমে উঠেছে দিনাজপুরের হিলিতে ঈদের কেনাকাটা। মার্কেটগুলোয় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। দোকানিরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য রঙ-বেরঙের নতুন পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন দোকানে। হিলি বাজারের জননী গার্মেন্ট, লাবণ্য গার্মেন্ট, মা গার্মেন্ট, শ্যামলী গার্মেন্ট,  মিতা গার্মেন্ট, বৃষ্টি গার্মেন্ট ও ঘুড়িঘরসহ বিভিন্ন ছোট-বড় মার্কেটে ক্রেতাদের আনাগোনা বেশ বেড়েছে।

মার্কেট করতে আসা আনোয়ার হোসেন জানান, ঈদের আর বেশি সময় নেই। এজন্য কেনাকাটা শুরু করেছি। মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য কাপড় কিনলাম।

সরকারি চাকরিজীবী ওয়াহিদা খানম জানান, দ্বিতীয় ধাপের লকডাউনে মার্কেট বন্ধ ছিল। ঈদের জন্য সরকার মার্কেট খুলে দিয়েছে তাই কেনাকাটা করতে এসেছি। ছেলেমেয়েসহ শ্বশুর-শাশুড়িদের জন্য পোশাক কিনছি।

ভ্যানচালক রাব্বানী বলেন, লকডাউনে তো তেমন কামাই (আয়) হয়নি। কিন্তু ছেলেমেয়েদের জন্য কিছু কিনতে হবে। ঈদের দিন নতুন কাপড় না কিনে দিলে, খারাপ লাগবে। জননি গার্মেন্টের স্বত্বাধিকারী জাকারিয়া রহমান বলেন, লকডাউনে তো এত দিন মার্কেট খুলতে পারিনি। সামনে ঈদ তাই দোকান খুলতে দিয়েছে সরকার। তবে দোকান খুলতেই বেচাকেনা ভালো হচ্ছে।

জামান গার্মেন্টের মালিক জামান বলেন, সকাল থেকে ক্রেতারা দোকানে ভিড় করছেন। বেচাকেনা ভালো, তবে ক্রেতারা অতীতের তুলনায় বেশি দর কষাকষি করছেন। হিলি খাসমহল হাট ও বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরমান আলী বলেন, হিলি হাট ও বাজার একটা পুরোনো বাজার। এখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা কেনাকাটা করতে আসেন। আমরা এখানে সবসময় ব্যবসায়ী পরিবেশ তৈরি করে রাখি।

হাকিমপুর পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত জানান, লকডাউনে মার্কেট বন্ধ থাকার পর আবারও তা সরকার খুলে দিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাবেচা করতে হবে জনসাধারণকে। আমরা বাজারগুলোয় জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুর-আলম জানান, সরকার ঘোষিত নির্দিষ্ট সময়ে দোকানপাট খোলা রাখতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। নির্দিষ্ট মূল্যে কেনাবেচা ও নির্ভেজাল খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করতে হবে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..