হৃদরোগ থেকে রক্ষায় কী করবেন

জীবনধারার পরিবর্তন, কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম, ধূমপান বা নেশাদ্রব্য বর্জন এবং সহায়ক ডায়েট বা পুষ্টি গ্রহণ করলে হৃদরোগকে দূরে রাখা যেতে পারে। ঘুম শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত রাত জেগে থাকেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁঁকি বেশি। তাই প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন। প্রতিদিন অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। ভালো ঘুম না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হার্ট ভালো রাখতে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করাতে হবে। এজন্য বলা হয়, হার্টের খাবার হলো বাতাস। হালকা ব্যায়াম, খেলাধুলা, জগিং বা সাইকেল চালালে স্ট্রেস হরমোন কমে গিয়ে হƒৎপিণ্ড সুস্থ থাকে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত মানুষকেও হালকা খেলাধুলা বা ব্যায়াম প্রফুল্ল রাখে। তাই সম্ভব হলে কার্ডিওটাইপ ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন নিয়মিত কিছু ব্যায়াম হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।

মানসিক চাপমুক্ত জীবন ভালো স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। যারা প্রায়ই মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন তাদের ডিপ্রেশন, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো অসুখ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে যারা সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন, মানসিক চাপে তাদের রক্তে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন গড়ে তুলুন। যোগব্যায়াম, ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামগুলো মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের নিয়ম হলো, লম্বা করে দম নিয়ে ধীরে ধীরে দম ছেড়ে দিতে হবে। ধ্যানের সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম শরীরকে শিথিল করে। ধ্যান আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে।

ধূমপান ত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ত্বক অনুজ্জ্বল ও ফ্যাকাশে দেখাতে পারে। সিগারেট, বিড়ি, হুঁকো ইত্যাদিতে থাকা তামাক থেকে উৎপন্ন নিকোটিন রক্ত চলাচলে বাধা দেয়। অনেক সময় অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এজন্য ক্যালরিজাতীয় খাবার, চিনি, স্যাচুরেটেড চর্বিযুক্ত খাবার কম খান। ভিটামিন ও মিনারেল আছে এ রকম খাবার বেশি খান।

কারও হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করুন। কারণ শুরুতে শনাক্ত হলে শুধু হৃদরোগ নয়, অনেক রোগ থেকে সেরে ওঠা যায়। তাই হৃদরোগের চিকিৎসায় অবহেলা নয়। এর উন্নত সব ধরনের চিকিৎসা এখন আমাদের দেশেই আছে।

অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন পরিচালক, এনআইসিভিডি, ঢাকা


সর্বশেষ..