প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

হেপাটাইটিস বি পজিটিভ হলে করণীয়

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসকে নীরব ঘাতক বলা হয়। বিভিন্ন কারণে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে অথবা কাউকে রক্ত দিতে গিয়ে সাধারণত কারও শরীরে ভাইরাসটি ধরা পড়ে। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি রক্তে সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘকাল রয়ে যায়। তবে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমণের সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করা হলে পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসারসহ নানা রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন: শরীরে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের উপস্থিতি জানতে একজন পরিপাকতন্ত্র ও লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক নানা দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেবেন। এই রোগের চিকিৎসা ও ফলোআপ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে সারা জীবন চিকিৎসা নেয়ারও প্রয়োজন হতে পারে।

নিরাময় সম্ভব: হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের চিকিৎসা নেই-অনেকের মধ্যে এমন ভুল ধারণা আছে। আবার অনেকে মনে করেন, কোনো সমস্যা যেহেতু হচ্ছে না, তাহলে চিকিৎসার কী দরকার। আসলে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস নির্মূলে বর্তমানে খুবই কার্যকর কিছু ওষুধ রয়েছে। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা করলে অনেক ক্ষেত্রে এটি নিরাময় সম্ভব। তা ছাড়া চিকিৎসা নিলে এই ভাইরাসজনিত জটিলতা যেমন লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার থেকে বেশির ভাগ রোগীকে বাঁচানো সম্ভব।

পজিটিভ হলে: কোনো ব্যক্তি এ ভাইরাস বহন করছেন জানতে পারলে তার উচিত হবে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিশেষ করে মা-বাবা, ভাই-বোন ও সন্তানদের শরীরে এই ভাইরাস আছে কি না, সেটাও জেনে নেয়া। কারণ, যাদের শরীরে এ ভাইরাস নেই, তারা টিকা দিয়ে খুব সহজেই এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। কোনো গর্ভবতী নারী যদি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের রোগী হয়ে থাকেন, তার উচিত হবে গর্ভকালীন গাইনি এবং পরিপাকতন্ত্র ও লিভার বিশেষজ্ঞের অধীনে থাকা। সন্তান প্রসব অবশ্যই হাসপাতালে হতে হবে। কারণ, এ সময় মায়ের কাছ থেকে তার গর্ভের সন্তানের শরীরে এ ভাইরাস চলে যেতে পারে। সে জন্য সন্তান জš§ানোর পরে সন্তানকে এই ভাইরাস প্রতিরোধে দ্রুত টিকা দিয়ে দিতে হবে।

মনে রাখুন:  সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে এই ভাইরাসের টিকা অন্তর্ভুক্ত করেছে। টিকা যারা এখনও পাননি, তাদের অবশ্যই নিতে হবে। এই ভাইরাস বহনকারী ব্যক্তি কাউকে রক্ত দিতে পারবেন না।

ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন

সহযোগী অধ্যাপক, পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও প্যানক্রিয়াস রোগ বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল