সারা বাংলা

হেফাজতকাণ্ডে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের ক্ষতি পাঁচ কোটি টাকা

প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান শফিকুল আলম। গতকাল রোববার দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির এ তথ্য জানান তিনি। তিনি রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংসকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কয়েক দফা ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তারা জেলা পরিষদ কার্যালয় ও ডাকবাংলোসহ সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেলা পরিষদ কার্যালয় ও ডাকবাংলো মেরামতে দুই কোটি আট লাখ ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন। আর সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতি টাকার অঙ্কে আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকা হবে।

তাণ্ডব ও সহিংসতার বর্ণনা করে তিনি বলেন, ২৬ মার্চ হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে ৪০০-৫০০ মাদরাসা ছাত্র এবং দুষ্কতকারীরা শহরের কাউতলি এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলাকালে বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র ও দুষ্কৃতকারীরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ভবনের আঙিনায় থাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরে কার্যালয়ে ভাঙচুর করে নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তারা গ্যারেজে থাকা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর দ্বিতীয় তলায় এসে নানা কক্ষের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ভাঙচুর করে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম ও সচিব মেহের নিগার উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..