বিশ্ব সংবাদ

হোয়াইট হাউসের বাইরেও বিক্ষোভ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন ট্রাম্প

শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ-সহিংসতা চলছেই। প্রথমদিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে তা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। প্রতিবাদে ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে, সহিংসতার মুখে অন্তত ৪০টি শহরে কারফিউ জারি হলেও তা ভেঙে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের বাইরেও বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার রাতে হোয়াইট হাউসের বাইরে জড়ো হন বিক্ষোভকারী। তারা আমেরিকার পতাকা ও প্রতিবাদী নানা প্ল্যাকার্ড হাতে মুহুর্মুহু সেøাগান  দেন এবং আগুন জ্বেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। একপর্যায়ে হোয়াইট হাউসের কাছেই অবস্থিত ঐতিহাসিক সেন্ট জনস চার্চে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা আমেরিকান পতাকা ও বেশ কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেন। তারা গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন এবং আশপাশের ভবনে ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বলপ্রয়োগ করে হটিয়ে দেয়। তারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারগ্যাস ছোড়ে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। 

গত সোমবার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে আফ্রিকান-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েডকে আটককালে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে তার মৃত্যুর প্রতিবাদে দেশব্যাপী হাজার হাজার লোক রাস্তায় বিক্ষোভ করে এবং সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

ফ্লয়েডকে আটকের পর এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে ৯ মিনিট ঘাড় চেপে ধরে রাখেন এবং এতে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে পুলিশের বর্বরতার প্রতীকে পরিণত হয় এবং ব্যাপক প্রতিবাদের সূচনা হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের অন্য এক খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউস ঘেরাও করলে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা প্রেসিডেন্টকে ভূগর্ভস্থ কক্ষে নিয়ে যান। এর আগে সন্ত্রাসী হামলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মাটির নিচের ওই বাঙ্কারে নেওয়া হয়। ২০০১ সালে নাইন/ইলেভেনের হামলার সময়ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনিকে ওই কক্ষে নেওয়া হয়।

বিক্ষোভ থামাতে গত শনিবার ৪০টির বেশি শহরে কারফিউ জারি এবং ১২টি অঙ্গরাজ্যে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সতর্কও করেছেন। এসব বিধি অমান্য করেই শনি ও রোববার হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসে নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। অনেক জায়গায় লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..