প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

হোলসিম কেনার খবর: লেনদেনের শীর্ষে লাফার্জ সিমেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেনের সেরা ১০ কোম্পানির তালিকার শীর্ষে ছিল লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। এদিন কোম্পানিটি ৭৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে। লাফার্জ সুরমা ৮৭ লাখ ৮৪ হাজার ১৯৯টি শেয়ার হাতবদল করে বলে ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার সিমেন্ট কোম্পানি হোলসিম বাংলাদেশকে কিনে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। বাংলাদেশে হোলসিমের ১০০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা কিনে নিচ্ছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। এজন্য কোম্পানিটিকে নগদ গুনতে হবে ১১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯২৮ কোটি টাকা। আর এমন খবর প্রকাশের পর গতকাল বাজারে স্বাভাবিকভাবেই লাফার্জের শেয়ারের চাহিদা বেড়ে যায়।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস) ৫৪ কোটি দুই লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে। এদিন কোম্পানিটি এক কোটি ৪৮ লাখ তিন হাজার ৮৬৫টি শেয়ার হাতবদল করেছে। আরএসআরএম স্টিল ২৯ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানির মধ্যে ফার কেমিক্যাল ২০ কোটি ৫৪ লাখ, ইস্টার্ন হাউজিং ১৯ কোটি, কেয়া কসমেটিকস ১৮ কোটি ৯০ লাখ, এ্যাপোলো ইস্পাত ১৮ কোটি ২৪ লাখ, লংকাবাংলা ফিন্যান্স ১৭ কোটি ৯৫ লাখ, ইফাদ অটোস ১৭ কোটি ৬৬ লাখ ও সিএমসি কামাল ১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশে সুইজারল্যান্ডের হোলসিম ও ফ্রান্সের লাফার্জ সিমেন্ট একীভূত হলেও বাংলাদেশে ঘটেছে ভিন্নটি। সিমেন্ট খাতে বিশ্বের এ দুটি নামীদামি কোম্পানির একীভূত হওয়া নিয়ে কয়েক দফা জটিলতা দেখা দেওয়ায় হোলসিম বাংলাদেশকে কিনে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট।
এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতির জন্য আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি কোম্পানির বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ জানুয়ারি। গত ২ নভেম্বর হোলসিমের পুরো শেয়ার কিনে নিতে আলোচনা শুরু করে লাফার্জ সুরমার পরিচালনা পর্ষদ।
গত বছরের ১০ জুলাই থেকে সিমেন্ট প্রস্তুতকারক ও বাজারজাতকারী দুই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হোলসিম ও লাফার্জ আন্তর্জাতিকভাবে একীভূত প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এর পর থেকে সুইজারল্যান্ডের হোলসিম ও ফ্রান্সের লাফার্জের সমন্বিত নাম হয় ‘লাফার্জ হোলসিম’। এরপরে বাংলাদেশে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকাণ্ড চলে আসছিল।
বর্তমানে বিশ্বের ৬৪টি দেশে লাফার্জের ও ৭০টি দেশে হোলসিমের কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশেও এই দুটি কোম্পানির কার্যক্রম আছে। এর মধ্যে লাফার্জ সিমেন্ট বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। আর হোলসিম তালিকাভুক্ত নয়।
সিমেন্ট খাতে বিশ্বের এ দুটি নামীদামি কোম্পানির একীভূত হওয়া নিয়ে কয়েক দফায় জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা একীভূতকরণ কার্যক্রম থেকে সরে এসে বুধবার হোলসিমকে কেনার সিদ্ধান্ত নেয় লাফার্জ।
বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত লাফার্জের সিমেন্ট কারখানা। ছাতকের নোয়ারাই গ্রামে সুরমা নদীর তীরঘেঁষে ২০০ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষা, নারীর অগ্রযাত্রা, সামাজিক ও পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে। বর্তমানে কোম্পানির নিজস্ব কারখানায় ‘সুপারক্রিট’ ব্র্যান্ডের সিমেন্ট উৎপাদন করা হয়। এর বাইরে বাজারে লাফার্জের ‘পাওয়ারক্রিট’ ব্র্যান্ডের যে সিমেন্ট পাওয়া যায়, সেটি উৎপাদিত হয় দেশি কোম্পানি মদিনা সিমেন্ট কারখানায়।