সম্পাদকীয়

হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে রবি’র এমন আচরণ কাম্য নয়

বিশ্বব্যাপী যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেওয়া মোবাইল ফোন পরিষেবা বাংলাদেশে চালু হয়েছে প্রায় তিন দশক আগে। সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ফোরজি ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে। সেদিক দিয়ে দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ মানের সেবার প্রত্যাশা গ্রাহকদের। হতাশাজনকভাবে তা হয়নি, উল্টো অপারেটরের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। গ্রাহক হয়রানিসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে প্রায়ই খবরের শিরোনাম হচ্ছে অপারেটরগুলো। বিশ্বজুড়ে যেখানে মোবাইল ফোন প্রযুক্তির এক ধরনের বিপ্লব চলছে, সেখানে দেশের অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। সর্বশেষ রবির বিরুদ্ধে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ না করার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা অপ্রত্যাশিত।

‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন: সাত বছর ধরে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছে না রবি’ শিরোনামে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত সাত বছর ধরে হোল্ডিং ট্যাক্স তথা গৃহকর পরিশোধ করছে না বহুজাতিক মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা। এমনকি গৃহকর প্রদানে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে গড়িমড়ি ও অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে, যা গুরুতর বটে। একটি বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের থেকে এ ধরনের আচরণ অপ্রত্যাশিত।

দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবার মান নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভয়েস কলের মূল্যবৃদ্ধি, এমএনপি’র ডিপিং চার্জ, ফোরজি সেবাপ্রাপ্তি, প্রযুক্তির অপব্যবহার, ফিক্সড ইন্টারনেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের শেষ নেই। এছাড়া ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু হলেও অনেক স্থানে টুজি ঠিকমতো মিলছে না। গ্রাহকসেবার এমন নাজুক পরিস্থিতির দায় এমনিতে এড়াতে পারে না অপারেটরগুলো। তারপর হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি তাদের সেবা ব্যবস্থাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করবে বৈকি। বিষয়টি নিয়ে রবির টালবাহানা করার অভিযোগও উঠেছে, যা কাম্য নয়।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, গৃহকর নির্ধারণে টাওয়ারের তালিকা ও ভাড়ার চুক্তিপত্র চসিককে দেয়নি কোম্পানিটি। ফলে করের পরিমাণের নির্ধারণ করা যায়নি। চসিকের পক্ষ থেকে বারবার পত্র দিলেও তাতে সাড়া দেয়নি রবি, যা গুরুতর। খোদ মেয়রকেও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এভাবে রাজস্ব আদায়ে বিঘœ ঘটলে তা স্বাভাবিক জনসেবায় বাধা তৈরি করতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। যে যুক্তিতে তারা কর প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে তাও গ্রহণযোগ্য নয়। রবির যদি যুক্তিপূর্ণ কোনো বক্তব্য থাকে, তবে গড়িমসি না করে আইনানুযায়ী সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে সুরাহা করা কাম্য। অসহযোগিতা করলে জটিলতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা। উভয়পক্ষই দ্রুত হোল্ডিং ট্যাক্স ইস্যুটি সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..