দুরে কোথাও ফিচার

হাওয়া  বদল: পাবনা

ধ্রুব দাস: ধুয়া, বারাসে, জারি, সারি, যাগ প্রভৃতি লোকসংগীত আজও পাবনার সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে রয়েছে। পাশাপাশি এখানকার মানুষের মুখে ঘুরেফিরে রয়েছে ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, লোকগাথা ও উপগাথা। প্রযুক্তির কারণে হারিয়ে যাওয়া অনেক খেলার প্রচলনও রয়েছে এ জেলায়। এর মধ্যে তীর-ধনুক, লাঠি, ডাংগুলি, কাছি টানাটানি, পাঁচগুটি, বাগরজানি, বাঘ-বন্দি, কুমির-ডাঙ্গা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সঙ্গত কারণে হাওয়া বদলের একটি চমৎকার স্থান হতে পারে পাবনা।

 

যেভাবে যাবেন

সড়কপথে যেতে পারেন পাবনা। রাজধানীর গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল হতে বেশ কিছু পরিবহনের বাস ছেড়ে যায় পাবনার উদ্দেশে। কল্যাণপুর খাজা মার্কেট, টেকনিক্যাল মোড় থেকেও কিছু বাস চলাচল করে। কিছু পরিবহন সংস্থার বাস নারায়ণগঞ্জ থেকে উত্তরা, আবদুল্লাহপুর হয়ে যাতায়াত করে। সব বাস যমুনা বহুমুখী সেতু হয়ে পাবনা যায়। এর মধ্যে পাবনা এক্সপ্রেস, বাদশাহ, বাদল, শ্যামলী, কিংস, সানমুন, কেয়া প্রভৃতি পরিবহনের সেবা উন্নতমানের।

চাইলে ভেঙে ভেঙেও যেতে পারেন। এজন্য গাবতলী থেকে আরিচাগামী বাসে চড়তে হবে। এরপর লঞ্চে বা ফেরিতে যমুনা নদী পার হতে হবে। নদী পার হয়ে নগরবাড়ী থেকে পাবনাগামী বাসে চড়তে হবে।

আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য রেলপথ বেছে নিতে পারেন। তবে সরাসরি পাবনা শহরে যেতে পারবেন না। জেলার চাটমোহর ও ঈশ্বরদী উপজেলায় রেলস্টেশন রয়েছে। খুলনা, রাজশাহী ও দিনাজপুরগামী ট্রেনগুলো এসব স্টেশন হয়ে যাতায়াত করে। ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে চিত্রা, সুন্দরবন, সিল্কসিটি, পদ্মা, ধূমকেতু, একতা প্রভৃতি। এ দুই রেলস্টেশন থেকে বাসে চড়ে সহজেই পাবনার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব।

 

যা দেখবেন

তাড়াশ ভবন, পাকশী রিসোর্ট, শাহি মসজিদ, সমাজ শাহি মসজিদ, লালনশাহ সেতু, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, জোড়া বাংলা মাজার, জোড় বাংলা মন্দির, অনুকুল চন্দ্র ঠাকুরের আশ্রম, নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস, বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র, পাবনা সুগার মিলস, নটাখোলা ঘাট, কাঞ্চন পার্ক, প্রশান্তি ভুবন বিনোদন পার্ক, বড়াল ব্রিজ, দিঘিরপিঠা, রাজা রায় বাহাদুরের বাড়ি, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, রেশম বীজাগার প্রভৃতি।

জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে গঙ্গা (পদ্মা), বড়াল, যমুনা, ইছামতি, আত্রাই, হুরাসাগর, চিকনাই প্রভৃতি। রয়েছে চলনবিলও।

 

যেখানে থাকবেন

ইভেনিং টাচ, সুজন আবাসিক হোটেলের পাশাপাশি পাবনায় থাকার জন্য সরকারি সার্কিট হাউজ, রেস্ট হাউজ ছাড়াও বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে হোটেলগুলোর মধ্যে শিল্টন, টাইম গেস্ট, প্রশান্তি ভুবন পার্ক, শাপলা, ইডেন বোর্ডিংয়ের সেবা বেশ ভালো।

 

যা খাবেন

দেশে প্রচলিত সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়

পাবনায়। খ্যাতি রয়েছে এ জেলায় তৈরি ঘিয়ের। হাওয়াবদল শেষে আত্মীয়স্বজনের জন্য নিয়ে আসতে পারেন পাবনার খাঁটি ঘি।

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..