দিনের খবর

১০০ টাকার খাবার খেয়ে ৫০ হাজার টাকা জিতলেন রাশেদ খান

## জানুয়ারি মাসে ইএফডিএমএস কূপনে একমাত্র ৫০ হাজার টাকা বিজয়ী রাশেদ খান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি চাকরিজীবী রাশেদ খান। জীবনে বহু লটারির টিকেট কিনেছেন। কোনদিন পুরস্কার পাননি। কিন্তু ইএফডিতে ভ্যাট দিয়ে প্রথমবারের মতো পেয়েছেন পুরস্কার। তাও এক টাকা, দুই টাকা নয়-৫০ হাজার টাকা। মাত্র ১০০ টাকা খরচ করে পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। এখন থেকে যাই কিনবো, ভ্যাট দিয়ে কিনবো। সঙ্গে পুরস্কার পেতে কূপন সংরক্ষণ করবো। সবাইকে ইএফডিতে কেনাকাটা করে কূপন (ইএফডিএমএস কূপন) সংরক্ষণ করতে বলবো।

পুরস্কার পেয়ে খুবই ভালো লাগছে-পুরস্কার পেয়ে এভাবেই আবেগ আপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছেন রাশেদ খান। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শেয়ার বিজকে এসব কথা বলেন তিনি। এনবিআর ঘোষিত ১০১টি পুরস্কারের মধ্যে দ্বিতীয় পুরস্কার একটি ৫০ হাজার টাকা, যা রাশেদ খান পেয়েছেন। রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) মিলনায়তনে রাশেদ খানের হাতে পুরস্কারের চেক তুলে দেন কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর। রাশেদ খান ছাড়াও চতুর্থ পুরস্কারপ্রাপ্ত (প্রতিজন ১০ হাজার টাকা) আরো ৯ ব্যক্তির হাতে পুরস্কারের চেক তুলে দেয়া হয়। এসময় অতিরিক্ত কমিশনার সোহেল রহমান, প্রমীলা সরকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাশেদ খান জানান, তিনি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ক্যাশ সহকারী হিসেবে কর্মরত। ১২ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টনে পিপাসা বার অ্যান্ড নাইটিংগেল রেস্টুরেন্টে ১০০ টাকার খাবার খেয়েছেন। বিল ইএফডি মেশিনে পরিশোধ করে ইএফডিএমএস কূপন সংরক্ষণ করেন। ৫ ফেব্রুয়ারি লটারি হওয়ার পর তিনি তার কূপনের নাম্বার মিলিয়ে দেখেন দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তিনি ভ্যাট দক্ষিণ কমিশনারেটে আবেদন করার পর আজ পুরস্কার দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, জীবনে কোনদিন পুরস্কার পাইনি। ইএফডিতে ভ্যাট দিলে পুরস্কার পাওয়া যাবে-এমন প্রচারণা দেখেছি। নিজের আগ্রহ আর ভালোবাসা বোধ থেকে কেনাকাটা করে ভ্যাট দিয়েছি। আর ইএফডিএমএস কূপন নিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছি। সবাই সচেতনভাবে কেনাকাটা করে ভ্যাট দিলে শুধু দেশের লাভ হবে না, পুরস্কারও পাওয়া যাবে।

ভ্যাট দক্ষিণ সূত্র জানায়, আরো ৯ ব্যক্তি জানুয়ারি মাসে এ কমিশনারেটের অধীনে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা করে তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে প্রতিজন ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। পুরস্কার বিজয়ীরা হলেন-মো. মেহেদী হাসান, মো. মাসুম, নিলয় কুমার মহন্ত, মো. বদরুজ্জামান, মো. রাশেদ খান, মো. ফিরোজ খান, মো. রায়হান খান, মো. রাইসুল ইসলাম, মিয়া মো. আদিল ও মো. অলিউল ইসলাম।

এনবিআর সূত্রমতে, ভ্যাট প্রদান সহজ ও আহরিত ভ্যাট সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) ও এসডিসি (সেলস ডেটা কন্ট্রোলার)। ইতোমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের এক হাজার ৬০০ এর বেশি প্রতিষ্ঠানে ইএফডি বসানো হয়েছে। বিক্রেতা যাতে মেশিন চালু রাখে তা মনিটরিং করছে এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট কমিশনারেট। তবে ইএফডি চালানকে জনপ্রিয় এবং ক্রেতাকে ভ্যাট প্রদানে উৎসাহিত করতে নগদ অর্থ পুরস্কার চালু করেছে এনবিআর। এতে প্রতি মাসে লটারির মাধ্যমে ১০১ ক্রেতাকে পুরস্কার হিসেবে ১২ লাখ ১৫ হাজার টাকা দেয়া হবে।

সূত্রমতে, প্রথম পুরস্কার হিসেবে একজন এক লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একজন ৫০ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে পাঁচজনের মধ্যে প্রত্যেকে ২৫ হাজার টাকা এবং চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে ৯৪ জন পুরস্কার পাবেন। ৫ ফেব্রুয়ারি এনবিআর সম্মেলন কক্ষে প্রথমবারের মতো লটারি করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম লটারির পুরস্কার ঘোষণা করেন। ইএফডিএমএস চালান (কূপন) এর উপর এ লটারি করা হয়।

###

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..