দিনের খবর শেষ পাতা

১০ টাকার নিচে দর থাকা শেয়ারের দৌরাত্ম্য

বাছবিচার ছাড়া বিনিয়োগ

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজারে দৌরাত্ম্য বেড়েছে সর্বোচ্চ ১০ টাকা দর রয়েছে এমন সব শেয়ারের। সম্প্রতি প্রতিনিয়ত দাপট দেখাচ্ছে এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার। দর কম থাকায় কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়া এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন তারা। অতি মুনাফার আশায় বিনিয়োগ করলেও এ ধরনের বিনিয়োগ তাদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিক বাজারচিত্রে দেখা যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানের মৌলভিত্তির বিচারে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের প্রথা থাকলেও এর তোয়াক্কা করছেন না বিনিয়োগকারীরা। শেয়ারের মূল আয় অনুপাত (পিই), শেয়ারপ্রতি সম্পদ, শেয়ারপ্রতি আয় কিংবা লভ্যাংশের হার এসবের কোনো কিছুই বাছবিচার করছেন না তারা। দিন শেষে যেসব কোম্পানি শুধু লেনদেন কিংবা দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকছে, সেসব শেয়ারেই তারা ঝুঁকে পড়ছেন। এ কারণে গুটিকয়েক কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগে মগ্ন রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এদিকে এসব শেয়ারের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে রয়েছে কারসাজির অভিযোগ কিংবা নানা গুজব। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ১০ টাকার নিচে দর রয়েছে এমন সব শেয়ার।

সম্প্রতি যেসব কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির দৌরাত্ম্য বেড়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আরএন স্পিনিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, তুংহাই নিটিং, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ফ্যামিলি টেক্স, ফাস্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, কেয়া কসমেটিকসসহ আরও কিছু কোম্পানি। এসব কোম্পানির প্রতিনিয়ত দর বাড়তে দেখা যাচ্ছে। কোনো দিন পাওয়া যাচ্ছে বিক্রেতা, যে কারণে দর হু হু করে বাড়ছে। প্রতিদিনই এসব শেয়ারদর বাড়ছে চার থেকে ১০ শতাংশ। অথচ এসব কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি তেমন মজবুত নয়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা থাকার কারণে সম্প্রতি এসব শেয়ারের দর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, যার ভিত্তিতে মৌলভিত্তির হিসাব পরিহার করে এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন তারা। ভবিষ্যতে শেয়ারের দর আরও বাড়বেÑএমন প্রত্যাশা নিয়েই তারা এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব শেয়ার নিয়ে গেম হচ্ছে, বিভিন্ন মাধ্যম

থেকে আমরা এমন খবর পাই। এর সত্য-মিথ্যা বলতে পারি না। তবে বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করি। কারণ নিজের হাউসের একজন বিনিয়োগকারী যখন লোকসানে থাকে তখন খারাপ লাগে। কিন্তু এরপরও শোনেন না বিনিয়োগকারীরা। তারা গুজবে কান দিয়েই বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন।’

একই বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজার যেমন থাকুক না কেন বিনিয়োগ সব সময় কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দেখে বিনিয়োগ করা উচিত। শেয়ারদর কম হলেই যে ওই শেয়ার থেকে ভবিষ্যতে ভালো মুনাফা পাওয়া যাবে এর কোনো গ্যারান্টি নেই। সে কারণে বিনিয়োগ করার আগে বিনিয়োগকারীদের এ কথাটি মাথায় রাখা দরকার।

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঊর্ধ্বমুখী বাজারে অনেক কোম্পানির শেয়ার থেকে সুবিধা নিতে চান কিছু সুযোগসন্ধ্যানী মানুষ। কখনও এর সঙ্গে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকেন। আমরা বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি। কোনো ধরনের অপরাধ সংগঠিত হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবস্থা নেব।

অন্যদিকে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়ার পাশাপাশি বাড়তে দেখা যাচ্ছে নামসর্বস্ব ও ‘জেড’ ক্যাটেগরির কিছু শেয়ারের দর। কোনো কারণ ছাড়াই এসব শেয়ারের দর টানা বাড়ছে। প্রতিদিনই মৌলভিত্তি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দর বৃদ্ধির দৌড়ে এগিয়ে থাকছে এসব প্রতিষ্ঠান। প্রতিনিয়তই দিন শেষে দর বৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসছে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম। বিষয়টি অস্বাভাবিক বলছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। এসব কোম্পানিকে নজরদারিতে রেখেছে বিএসইসি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..