দিনের খবর শেষ পাতা

১০ বছরে নেতিবাচক নীতিমালায় রিকন্ডিশন্ড খাতে বিপর্যয়

প্রাক-বাজেট ২০২১-২২

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১০ বছর ধরে কিছু নেতিবাচক নীতিমালার কারণে রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ফলে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায়

গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোটার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) এমন দাবি উপস্থাপন করে শুল্কছাড়ের বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযানে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমে আসবে। পাশাপাশি দেশে ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার সৃষ্টির যথেষ্ট সুযোগ আছে। আর এ কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ইলেকট্রিক ব্যাটারিচালিত মোটরগাড়ি আমদানিতে প্রচলিত ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক-কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন গাড়ির পাশাপাশি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে সুনির্দিষ্ট শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বারভিডা।

সভায় বারভিডা সভাপতি আব্দুল হক বলেন, গত ১০ বছর ধরে কিছু নেতিবাচক নীতিমালার কারণে রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। এর ফলে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পুরোনো গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় এবং নতুন গাড়ির শুল্ককর কম হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পুরোনো গাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় ক্রেতারা নিন্মমানের নতুন গাড়ি কিনে ক্ষতিগ্রস্ত বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণ প্রয়োজন।

জাতীয় বাজেটে বিবেচনার জন্য বারভিডা-অবচয় হার পুনর্নির্ধারণ; সিসি সø্যাব ও সম্পূরক শুল্কের হার পুনর্বিন্যাস; ফসিল ফুয়েল গাড়ি (সম্পূরক শুল্ক); রিকন্ডিশন্ড গাড়ির সংজ্ঞা নির্ধারণ; অবচয় প্রদানের উদ্দেশ্যে গাড়ির বয়স গণনা পদ্ধতি সংশোধন; বেশিসংখ্যক যাত্রী পরিবহনে ব্যবহƒত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার; পাবলিক ট্রান্সপোর্টের আমদানি শুল্ক কমানো; পিকআপ, ডাম্প ট্রাক, ফায়ার ফাইটিং ভেহিকলসসহ অন্যান্য বিশেষায়িত মোটরযানের আমদানি শুল্ক কমানো এবং আমদানি রিকন্ডিশন্ড মোটরযান বিক্রি ও বিপণনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভ্যাট দেয়া নীতিমালা প্রণয়ন-সংক্রান্ত প্রস্তাব করে।

স্পেসিফিক ডিউটি বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল হক বলেন, অনেক দেশে নির্দিষ্ট শুল্কারোপের নজির রয়েছে। সিসি ও মোটরযানের প্রকৃতিভেদে স্পেসিফিক ডিউটি আরোপ করা যেতে পারে। সমপ্রকৃতির ব্র্যান্ডনিউ মোটরযানের ওপর আরোপিত স্পেসিফিক ডিউটি থেকে বছরভেদে ও গাড়ির প্রকৃতিভেদে এক বছর পুরোনো ১০ শতাংশ, ২ বছর পুরোনো ২০ শতাংশ, ৩ বছর পুরোনো ৩০ শতাংশ, ৪ বছর পুরোনো ৪০ শতাংশ এবং ৫ বছর পুরোনো ৫০ শতাংশ হারে অবচয় প্রদানপূর্বক রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করেছি।

তিন বলেন, ব্র্যান্ডনিউ গাড়ির মূল্য নির্ধারিত হয় আমদানিকারকের ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে। এ প্রক্রিয়ায় আন্ডার ইনভয়েসিং এবং বিভিন্ন ফাঁকফোকর তৈরি করে শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা লক্ষণীয়। বৈষম্যের কারণে নতুন গাড়ির চেয়ে পুরোনো গাড়ির মোট কর আপতন বেশি দাঁড়াচ্ছে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্ক বেশি হওয়ায় এ গাড়ির বিক্রি লক্ষণীয়ভাবে কমে গিয়ে সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হারাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বারভিডার পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব এসেছে, তা রাজস্ব সহায়ক। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হবে। আশা করছি, নতুন বাজেট এ খাতের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।’ সভায় এনবিআর সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম, সদস্য (শুল্কনীতি ও আইসিটি) সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া, বারভিডার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম (সম্রাট), জসিম উদ্দিন মিন্টু এবং যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ মোকলেসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..