দিনের খবর শেষ পাতা

১০ বছরে লক্ষ্যমাত্রা ২৪০ ও আদায় ১৩৮ শতাংশ বেড়েছে

এলটিইউ ভ্যাট

রহমত রহমান: ভ্যাট আদায়ে এনবিআরের আওতাধীন বিশেষায়িত শাখা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বৃহৎ করদাতা ইউনিট মূল্য সংযোজন কর তথা এলটিইউ ভ্যাট। দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে এলটিইউ গঠন করে এনবিআর। আর এনবিআরের মোট ভ্যাট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৬ শতাংশ আদায় করে এলটিইউ।

গত ১০ বছরে এলটিইউর লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে প্রায় ২৪০ দশমিক ৮০ শতাংশ, আর আদায় বেড়েছে প্রায় ১৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবছর লক্ষ্যমাত্রা ও আদায়ের পরিমাণ বাড়ছে। দক্ষ জনবল আর প্রযুক্তি সক্ষম করা হলে দেশি-বিদেশি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও বেশি ফাঁকি উদ্ঘাটন ও রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন এনবিআর সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছর এলটিইউর ভ্যাট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা, আর বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছর তা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৫২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০১১-১২ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে এলটিইউর লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে প্রায় ২৪০ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর ২০১১-১২ অর্থবছর এলটিইউ আদায় করেছিল ২০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। আর ২০২০-২১ অর্থবছর আদায় করেছে ৪৯ হাজার ২৫১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০১১-১২ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটির আদায় বেড়েছে প্রায় ১৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

হিসাবে দেখা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছর এলটিইউর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছিল ২০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৫৬ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় প্রবৃদ্ধি ১০৪ শতাংশ। এছাড়া ২০১২-১৩ অর্থবছর ২৫ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২১ হাজার ৫৫২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা; প্রবৃদ্ধি ৮২ দশমিক ৯২ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছর ২৪ হাজার ৪৪৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩ হাজার ৬৮৪ কোটি ৪ লাখ টাকা; প্রবৃদ্ধি ৯৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছর ২৮ হাজার ৪২০ কোটি ৮১ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৫ হাজার ৪৫১ কোটি ৯১ লাখ টাকা; ৮৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

হিসাবে আরও দেখা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর ৩০ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৭ কোটি ২১ লাখ টাকা;  আদায়ের হার ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছর ৪০ হাজার ৬৩২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা; আদায়ের হার ৯১ দশমিক শূন্য এক। ২০১৭-১৮ অর্থবছর ৪৫ হাজার ৮৮৯ কোটি ৬৯ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪৪ হাজার ৫৬৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা; আদায়ের হার ৯৭ দশমিক ১০ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর ৫৭ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪৫ হাজার ৮৯৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা; আদায়ের হার ৭৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছর ৫৬ হাজার ৯০৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪২ হাজার ৫৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা; আদায়ের হার ৭৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছর ৬৭ হাজার ৫২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪৯ হাজার ২৫১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায়ের হার ৭২ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

এলটিইউ সূত্রমতে, রাজস্ব পরিশোধ প্রবৃদ্ধি নি¤œমুখী থাকায় সম্প্রতি এনবিআর ৩৪টি বড় প্রতিষ্ঠানকে এলটিইউ থেকে ঢাকার চারটি কমিশনারেটে স্থানান্তর করার আদেশ দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের গত তিন অর্থবছরের গড় রাজস্ব ১০ কোটি টাকার নিচে হওয়ায় এলটিইউ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এলটিইউতে বর্তমানে ১১০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এলটিইউর হিসাব অনুযায়ী, ১০টি খাত থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করে এলটিইউ। এর মধ্যে সিগারেট, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোবাইল, ব্যাংক, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, কোমল পানীয়, টয়লেট সোপ, সিমেন্ট ও সিরামিক অন্যতম।

হিসাবে আরও দেখা যায়, এলটিইউর আদায় করা মোট রাজস্বের প্রায় ৪৮ শতাংশ জোগান দেয় দুটি বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানি। এছাড়া ১৮ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস, ১২ শতাংশ মোবাইল অপারেটর, ৫ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি, ৫ শতাংশ ব্যাংক ও অন্যান্য কোম্পানিগুলো ১২ শতাংশ রাজস্ব জোগান দেয়। এলটিইউর আদায় করা মোট রাজস্বের তিন-চতুর্থাংশ জোগান দেয় ১০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছেÑব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড, পেট্রোবাংলা, জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন লিমিটেড, বাংলালিংক, রবি আজিয়াটা লিমিটেড, তিতাস গ্যাস লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

এনবিআরের একজন সদস্য শেয়ার বিজকে বলেন, এলটিইউতে প্রতিবছর লক্ষ্যমাত্রা ও আদায় বাড়ছে। দক্ষ জনবল আর উচ্চ প্রযুক্তি সহায়তা দেয়া হলে ভ্যাটের আদায়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। এলটিইউকে সব দিক থেকে দক্ষ করার চেষ্টা করছে এনবিআর। এখানে থাকা দেশি-বিদেশি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সেবা দান, দাখিলপত্র যাচাই ও প্রতিষ্ঠান নজরদারি করা গেলে ভ্যাট আদায় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

এনবিআর সূত্রমতে, আধুনিক মূসক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সর্বোচ্চ মূসক প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সেবাদান ও সর্বোচ্চ মূসক আহরণের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর এ বিশেষায়িত শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে ১৬৬টি ইউনিটের (প্রতিষ্ঠান) মাধ্যমে এলটিইউ যাত্রা করে। পরে এর নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭০। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় নিবন্ধনের আওতায় চলে আসে। আর ৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট কমিশনারেটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..