বিশ্ব বাণিজ্য

১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা এইচএসবিসির

শেয়ার বিজ ডেস্ক: খরচ কমাতে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে ব্রিটেনভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)। ব্যাংকটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নোয়েল কুইন এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। খবর : ফিনান্সিয়াল টাইমস।
আগামী বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যায় ব্যাপকভাবে কমানোর পরিকল্পনা করেছেন নোয়েল। ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনায় প্রধানত উচ্চ বেতনের কর্মকর্তারাই আছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এ মাসে, তখন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত আগস্টে হঠাৎ করে জন ফ্লিন্ট সিইওর পদ থেকে সরে দাঁড়ালে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেন নোয়েল।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর ওপর। এর পাশাপাশি ব্রেক্সিট অনিশ্চয়তায় ব্রিটেনসহ গোটা ইউরোপেই রাজনৈতিক টানাপড়েনের জেরেও শিল্প-ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। নতুন বিনিয়োগে উৎসাহ হারাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। এতে ব্যাংকের মুনাফায় নেতিবচাক প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতেই এইচএসবিসি কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে চলেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’-এর ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকের মূল লক্ষ্য ব্যয় সংকোচন। শীর্ষ ওই সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি, প্রাথমিকভাবে বেশি বেতন পাওয়া কর্মীদেরই সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের তালিকায় রাখা হয়েছে।
এ বছরের আগস্টে হঠাৎ করে সিইও পদ থেকে জন ফ্লিন্টের বিদায় ঘোষণা করে এইচএসবিসি। চেয়ারম্যান মার্ক টাকারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই তাকে সরতে হয় বলে মনে করছেন অনেকে। আরও জানা যায়, চেয়ারম্যান মার্ক টাকার কর্মী ছাঁটাই করে খরচ কমানোর কথা বলেন। কিন্তু তাতে সহমত হননি জন ফ্লিন্ট। তিনি সরে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সিইও করা হয় নোয়েল কুইনকে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরে চেয়ারম্যানের মতবাদে সমর্থন করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে এইচএসবিসির তরফে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিশ্বজুড়ে ব্যাংকটির দুই লাখ ২৮ হাজার কর্মী রয়েছে।
৩০ জুন পর্যন্ত ছয় মাসে এইএচবিসির করপূর্ব আয় ১৫ দশমিক আট শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিন দশক ধরে এইচএসবিসিতে কাজ করে আসা ৫০ বছরবয়সী ফ্লিন্ট বলেন, ‘আমি পর্ষদের সঙ্গে এবিষয়ে একমত হয়েছি যে, আজকের ভালো অন্তর্বর্তী ফল বলে দিচ্ছে আমার ও ব্যাংকের- উভয়ের জন্য পরিবর্তনের এটাই সঠিক সময়।
কঠিন পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় সুদের হারে পতন, গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু ও ব্রেক্সিটের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছে ব্যাংকের পর্ষদ।

সর্বশেষ..