বিশ্ব সংবাদ

১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মন্দায় যুক্তরাজ্য

শেয়ার বিজ ডেস্ক : চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমেছে ২০ দশমিক চার শতাংশ। ১১ বছরের মধ্যেই এ প্রথম সবচেয়ে বড় মন্দায় পড়ল দেশটি। খবর: বিবিসি।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যে জিডিপি হ্রাসের পরিমাণ ছিল দুই দশমিক দুই শতাংশ। এরপরই করোনাভাইরাস-জনিত মহামারির ধাক্কায় দেশব্যাপী লকডাউন জারি করে ব্রিটিশ সরকার। পরপর দুটি প্রান্তিকে জিডিপি সংকুচিত হলে কোনো দেশ অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে বলে ধরা হয়।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যানবিষয়ক কার্যালয় (ওএনএস) জানিয়েছে, সেবা খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক পতন দেখা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জুন মাসে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সহজ হতে শুরু করার পর অর্থনীতি আবার সচল হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানবিদ জোনাথন অ্যাথো বলেন, জুনে দোকানপাট খুলেছে, কলকারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং আবাসনশিল্প আবারও সচল হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে অর্থনীতির চাকা আবারও ঘুরতে শুরু করেছে।’

ওএনএস জানিয়েছে, এবার জি৭-ভুক্ত যেকোনো দেশের তুলনায় বড় অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে ব্রিটেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ১০ দশমিক ছয় শতাংশ, অর্থাৎ তাদের চেয়ে যুক্তরাজ্যের সংকোচন প্রায় দ্বিগুণ বেশি। অর্থনৈতিক সংকোচনের দিক থেকে ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির চেয়েও এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্য। জি৭-এর বাকি দুই সদস্য কানাডা ও জাপান এখনও দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য প্রকাশ করেনি।

এ বছর দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কমেছে রেকর্ড ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ, নির্মাণ খাতে কমেছে ৩৫ শতাংশ এবং উৎপাদন খাতে কমেছে অন্তত ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। লকডাউনের কারণে মানুষজন ঘরে থাকতে বাধ্য হওয়ায় গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

এদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) গত এক দশকের মধ্যে কর্মসংস্থানেও সংখ্যাগত বৃহত্তম পতন দেখেছে যুক্তরাজ্য। ওএনএসের উপাত্ত অনুযায়ী, প্রান্তিকটিতে কর্মসংস্থান কমেছে দুই লাখ ২০ হাজার। সর্বশেষ ২০০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের মে থেকে জুলাইয়ের পর কোনো প্রান্তিকে দেশটির কর্মসংস্থানের এমন পতন আর দেখা যায়নি।

এ অবস্থায়ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যে পরিমাণ আশঙ্কা করা হয়েছিল, বেকারত্ব ঠিক ততটা বাড়েনি। কারণ অধিকাংশ কোম্পানিই তাদের কর্মীদের সরকার-সমর্থিত ফার্লো স্কিমের আওতাভুক্ত করেছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অক্টোবরে এ স্কিম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কর্মসংস্থানের ওপর প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে না।

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী রিশি সুনাক বলেছেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, কঠিন সময় সামনে। আজকের তথ্য নিশ্চিত করেছে, সেই কঠিন সময় এসে গেছে। এরই মধ্যে লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে এবং দুঃখজনকভাবে আগামী মাসগুলোয় আরও অনেকেই হারাবে। তবে সামনে আরও কঠিন অবস্থা এলেও আমরা এটি পার হয়ে যাব। আমি জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারি, কেউই আশা বা সুযোগহারা হবেন না।’

ওএনএস জানিয়েছে, কাজ করা হয়েছে এমন গড় কর্মঘণ্টার সংখ্যা যুক্তরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে কমে বার্ষিক ও প্রান্তিকীয় হিসাবে রেকর্ড নি¤েœ এসে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটির সহকারী জাতীয় পরিসংখ্যানবিদ জনাথন অ্যাথো বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৪ কিংবা তার কম বয়সি তরুণ কর্মীরা। একই সঙ্গে বয়স্ক ও কম দক্ষতাপূর্ণ কাজ করে, এমন কর্মীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। কারণ এ ধরনের কর্মীদের পক্ষে অন্যদের তুলনায় নতুন কোনো চাকরি খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..