১১ মাসে ৪৫% লিরার পতন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। দেশটিতে খাদ্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ার সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়েই চলেছে। তুর্কি মুদ্রা লিরার মান রেকর্ড কমে গেছে। সম্প্রতি কয়েক দফায় ডলারের বিপরীতে লিরার মান হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছর গত ১১ মাসে ৪৫ শতাংশ দাম কমেছে লিরার মান। যদিও এ নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তেমনটা উদ্বিগ্ন নন। খবর: বিবিসি, রয়টার্স।

অর্থনীতিবিদরা লিরার অবমূল্যায়নে মোটাদাগে চারটি কারণ উল্লেখ করেছেন। যেমন- প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অর্থনীতি সংস্কার নামে ‘অপ্রচলিত নীতি’, পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজš§ ও অসম্ভব ধারণা।

অপ্রচলিত নীতি: বিশ্লেষকদের মতে, লিরার পতনের সহজ কারণ হলোÑপ্রতিযোগিতামূলক মুদ্রার সঙ্গে তুরস্কের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি বাড়াতে সুদহার হ্রাসে এরদোয়ানের অপ্রচলিত অর্থনৈতিক নীতি। এ ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। যদিও এরদোয়ান তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পক্ষে সাফাই গেয়ে চলেছেন।

২০০৮ সালে ১ লিরায় বাংলাদেশের ৪০ টাকা পাওয়া যেত। শুক্রবার ১ লিরায় ছয় টাকা ২৫ পয়সা পাওয়া গেছে। এমন অবস্থায় এরদোয়ান অর্থমন্ত্রীকে সরিয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। বুধবার দেশটির অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে এরদোয়ানের ডেপুটি নুরেদ্দিন নেবাতিকে। এর আগে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় অর্থমন্ত্রী লুৎফি এলভান পদত্যাগ করেন। এলভান গত বছরের নভেম্বর থেকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

এরদোয়ানের চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তিনবার সুদ হার কমিয়েছে। মূল্যস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও সুদের হার কমানো হয়েছে। মূলত এরদোয়ানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কারণে অর্থনীতির এমন দুর্দশা বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের। গত দুই বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারজন গভর্নর বদলিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরদোয়ানের অর্থনীতি নিয়ে ভ্রান্ত চিন্তার কারণে বর্তমানে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্টের ধারণা, মুদ্রার দাম কম হওয়া মানে আর্থিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়া। কিন্তু অর্থনীতিবিদেরা বলছেন আসলে ঘটনাটি উল্টো। তারা বলছেন, এরদোয়ানের এমন নীতির কারণ তুরস্ককে ডুবিয়েছে।

পণ্যের দাম বৃদ্ধি: মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে জিনিসের দাম বাড়ছে। নিত্যপণের দাম ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানি তেল থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর দাম বেড়ে যাচ্ছে হু হু করে। আগের তুলনায় এ বছর মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৫০ শতাংশ। বুধবার যে তেল ছিল ৪০ লিরা, শুক্রবার সেই তেল ৮০ লিরায় কিনতে হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১০৪  জন  

সর্বশেষ..