প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

১২ ঘণ্টা লাইনে থেকেও টিকিট পাননি অনেকে

ঈদে ট্রেনে বাড়ি ফেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কমলাপুরের কাউন্টারে প্রায় ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রত্যাশিত টিকিট না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির শুরুর চার ঘণ্টার মধ্যেই কমলাপুর স্টেশনে টিকিট ফুরিয়ে যাওয়ায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে অনেককেই। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকার কমলাপুর, ফুলবাড়িয়া, বিমানবন্দর, তেজগাঁও ও ক্যান্টনমেন্ট এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ঈদের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এ দিন বিক্রি হয় ৫ জুলাইয়ের টিকিট।

বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাউন্টার খোলা থাকার কথা থাকলেও বেলা ১২টার মধ্যে টিকিট শেষ হওয়ার কথা জানান স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার। অবশ্য তিনি আগেই স্বীকার করেছিলেন, যত যাত্রী টিকিটের জন্য কাউন্টারে ভিড় করেছেন, তাদের সবাইকে দেয়ার মতো টিকিট নেই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাসুদ সারোয়ার বলেন, ‘আমরা ২৬ হাজার ৭৩৯টি টিকিট বিক্রি করব, এর অর্ধেক অনলাইনে, আর অর্ধেক কাউন্টার থেকে। এখানে যে দীর্ঘ লাইন হয়েছে, সবার টিকিট পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।’

২৬ হাজার ৭৩৯টি টিকিটের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি টিকিট দেয়া হয়েছে ৯টি স্টেশনের কাউন্টার থেকে। কমলাপুর থেকে শুধু উত্তরবঙ্গের সাতটি ট্রেনের টিকিট দেয়া হয়েছে। সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে ১৬টি কাউন্টারের সামনে টিকিট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তাদের অনেকে টিকিট পাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার থেকেই স্টেশনে ঘাঁটি গেড়েছেন বলে জানান। 

পঞ্চগড়ের টিকিটের জন্য ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট না পাওয়ার কথা জানিয়ে সূত্রাপুরের আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এখানে এসেছি। পরিবার নিয়ে দেশে যাব, তাই আসছি টিকিট কিনতে। কিন্তু পেলাম না। কী আর করা, সন্ধ্যায় আবার আসব।’

আব্দুর রহমানের পরে এসেও অনেকে টিকিট পেলেও তিনি কেন পেলেন না জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার আসলে এসি টিকিট দরকার। শোভন চেয়ারের টিকিট ছিল, সেটা নিইনি।’

গতকাল ভোরে কমলাপুর স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট না পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অঞ্জন চৌধুরী জানালেন, তিনি রোববার আবার চেষ্টা করবেন।

মগবাজারের আনোয়ার হোসেন রংপুরে যাওয়ার টিকিট পেতে ভোর ৪টায় কমলাপুরে আসার কথা জানালেন। বেলা সোয়া ১২টার দিকে ফিরে যাওয়ার সময় বলেন, ‘টিকিট শেষ, পাইনি আবার লাইনে দাঁড়াব কি না ভাবতেছি।’

কোরবানির ঈদ আগামী ১০ জুলাই। তার আগের দুদিন শুক্র ও শনিবার। ফলে এবার ঈদযাত্রার ভিড় শুরু হবে ৭ জুলাই শেষ কর্মদিবসের পর। ১ জুলাই বিক্রি হচ্ছে ৫ জুলাইয়ের টিকিট। ২ জুলাই বিক্রি হবে ৬ জুলাইয়ের টিকিট। ৩ জুলাই বিক্রি হবে ৭ জুলাইয়ের টিকিট। ৪ জুলাই বিক্রি হবে ৮ জুলাইয়ের টিকিট। ৫ জুলাই বিক্রি হবে ৯ জুলাইয়ের টিকিট। ঈদ শেষে ট্রেনের ফিরতি যাত্রা শুরু হবে ১১ জুলাই থেকে। ১১ জুলাইয়ের যাত্রার টিকিট মিলবে ৭ জুলাই। ১২ জুলাইয়ের যাত্রার টিকিট মিলবে ৮ জুলাই। ১৩ জুলাইয়ের যাত্রার টিকিট মিলবে ৯ জুলাই। ১৪ ও ১৫ জুলাইয়ের যাত্রার টিকিট মিলবে ১১ জুলাই।

ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে উত্তরাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট, কমলাপুর শহরতলি প্লাটফরম থেকে রাজশাহী ও খুলনাগামী ট্রেনের টিকিট দেয়া হচ্ছে। ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট, তেজগাঁও স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে ময়মনসিংহ, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জগামী ঈদ স্পেশাল ট্রেনের টিকিট।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে বিক্রি হচ্ছে নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট, ফুলবাড়িয়া স্টেশন থেকে বিক্রি হচ্ছে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট। এ ছাড়া গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ঈদ স্পেশাল ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

নির্ধারিত কাউন্টারে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে। নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি করে কাউন্টারের ব্যবস্থা রয়েছে। টিকিট কাটার সময় যাত্রীদের এনআইডি বা জš§সনদের ফটোকপি দেখাতে হচ্ছে। বিক্রি করা ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট ফেরত নেয়া হবে না। স্পেশাল ট্রেনের কোনো টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে না। শুধু স্টেশন কাউন্টারে বিক্রি করা হবে।