১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েট বন্ধ ঘোষণা

শিক্ষকের মৃত্যু

শেখ শান্ত ইসলাম, খুলনা: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি এক সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি গতকাল বিকাল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। এর আগে সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। এ সময় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সভায় উপাচার্যসহ সিন্ডিকেট সদস্যরা অংশ নেন।

সভা শুরুর পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ না করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন।

অধ্যাপক সেলিম হোসেন কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ছিলেন।

গত ৩০ নভেম্বের বিকালে অধ্যাপক সেলিম হোসেন হƒদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর অভিযোগ ওঠে তিনি কুয়েট ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাঞ্ছনা ও অপদস্থের শিকার হয়ে হƒদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রলীগ নেতা সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের রাস্তায় ড. সেলিম হোসেনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন, তর্ক-বিতর্ক করছেন। পরে তারা ড. সেলিমকে অনুসরণ করে তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে শিক্ষকের ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ করেন এবং প্রায় ৩০ মিনিট পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বের হয়ে যান। পরে অধ্যাপক সেলিম বের হয়ে বাসায় যান।

ওই শিক্ষকের স্ত্রী জানান, বাসায় ফেরার পর ড. সেলিম বাথরুমে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বের না হওয়ায় তিনি দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে কয়েকদিন ধরে ছাত্রলীগ নেতারা প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেনকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার তারা ড. সেলিমের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং হুমকি দেন। এতে তিনি প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পান; একপর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে কুয়েট। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমিতি আন্দোলনের নামে। ২ ডিসেম্বর শিক্ষকরা একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন এবং প্রতিবাদ সভা করেন। সেখানে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি তোলা হয়। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করা হয়।

শিক্ষক নেতারা জানান, অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা না পর্যন্ত শিক্ষকরা সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেছেন। শিক্ষক সমিতির গৃহীত যে কোনো ধরনের কর্মসূচির সময় শিক্ষকরা একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি প্রসাশনিক কার্যক্রমও বর্জন করবেন।

ড. সেলিম হোসেনের পরিবারকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য ন্যায্য অর্থনৈতিক সুবিধাসহ অতিরিক্ত এক কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উপাচার্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে। বিচারিক প্রক্রিয়া শিগগির শুরু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১২১  জন  

সর্বশেষ..