সারা বাংলা

১৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি নন্দীগ্রাম হাসপাতাল

পারভীন লুনা, বগুড়া: বগুড়ার নন্দীগ্রাম ২০ শয্যা হাসপাতালে ওটিসহ মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ১৩ বছর আগে আনা হলেও এখনও সেভাবেই রয়েছে। ধুলাবালির স্তূপ পড়েছে সেগুলোর ওপর। নেই কোনো নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুধু নিয়োগপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট ও প্রেষণে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে চলছে বহির্বিভাগ।
হাসপাতালটি নির্মাণে সরকারের সাড়ে তিন কোটির বেশি টাকা খরচ হলেও চালু না হওয়ায় তা এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। ব্যবহার না করায় হাসপাতালের শয্যা ও আসবাবপত্রে ধুলাবালির আস্তরণ জমেছে। ঘুণপোকার কারণে ভবনের দরজা-জানালার কপাট খুলে পড়ছে।
নন্দীগ্রাম ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থান ৯ কিলোমিটার দূরে বিজরুল বাজারে। উপজেলা সদরে কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় পৌর শহরসহ আশেপাশের বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল। নারীরা জš§নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং শিশুরা বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাচ্ছিল। এ কারণে উপজেলা সদরে একটি আধুনিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের দাবি তোলেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১-০২ অর্থবছরে উপজেলা সদরে ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হয় তিন কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০০২ সালে তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকারের সময় তারেক রহমান হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
২০০৫ সালে এর অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আটকে যায়। জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা। এরপর দীর্ঘ ১৩ বছরেও জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি। ফলে হাসপাতালের বিশাল ক্যাম্পাসজুড়ে ঘাস ও বিভিন্ন গাছপালার জঙ্গল হয়ে গেছে। এর ফলে আবাসিক ভবনগুলো নষ্ট হতে চলেছে।
সূত্র জানায়, ২০ শয্যার অত্যাধুনিক এ হাসপাতালে চিকিৎসক, সেবিকা, চিকিৎসা সহকারী, ঔষধবিদ, ওয়ার্ডবয়, অফিস সহকারী, ল্যাব অ্যাটেনডেন্টসহ ১৩ জনের পদ রয়েছে। ২০০৮ সালে চিকিৎসক ছাড়া অন্যান্য পদে ছয় কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় ব্যবস্থপনায় হাসপাতালটির বহির্বিভাগ চালু করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। অল্পদিনের মাথায় ঔষধবিদ ছাড়া অন্যরা অন্যত্র চলে যান।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রধান ফটক ও স্টোর রুম ছাড়া সব কক্ষে তালা ঝুলছে। হাসপাতালের একটি কক্ষে চলছে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আদলে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার উম্মে হাসনা বানু জানান, তিনি এখানকার নিয়োগপ্রাপ্ত নন। পাশের ভাটগ্রাম ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে প্রেষণে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার জন্য এখানে তাকে পাঠানো হয়েছে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া রোগীদের কোনো সেবা দেওয়া যায় না।
চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার রিধইল গ্রামের জাহানারা বেগম জানান, গরিব মানুষ টাকার অভাবে বগুড়া যেতে পারছেন না। ওষুধ কিনতে পারছেন না। হার্টের অসুখ নিয়ে এ হাসপাতালে এলে কয়েকটা বড়ি ছাড়া কিছুই দেয় না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল জানান, জনবলের অভাবে ওই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যাচ্ছে না। জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনও সরকারিভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, ২০ শয্যা হাসপাতালটি চালু করার বিষয়ে সংসদে কথা বলেছেন। তারা একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন পাঠাবে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেছে।

সর্বশেষ..