প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

১৩ মাসে প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি রফতানি বেড়েছে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রধান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক ও পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় চলতি বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ায় গাড়ি উৎপাদন বেড়েছে। ফলে রফতানিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সরকারি এক বার্তায় বলা হয়েছে। ১৩ মাসের মধ্যে ওই সময় দেশটির গাড়ি রফতানি প্রথম বেড়েছে। খবর সিনহুয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নভেম্বরে দেশটির গাড়ি রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। ওই সময় দেশটি থেকে মোট দুই লাখ ৬০ হাজার ৪৯১টি গাড়ি রফতানি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরের পর এটাই মাসিক রফতানি বৃদ্ধির ঘটনা।  দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি খাতের প্রধান পণ্য গাড়ি। গত মাসে এক দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে তিন দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, ১৭ মাসের মধ্যে এ পরিমাণ প্রথম বাড়লো।

প্রদান গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ সমঝোতার কারণে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশ-বিদেশে গাড়ি বিক্রির পরিমাণ বেড়ে গেছে।

গত মাসে স্থানীয় কোম্পানিগুলোর দেশি বাজারে গাড়ি বিক্রি দুই দশমিক আট শতাংশ বেড়ে এক লাখ ৪৩ হাজার ৩২৯ ইউনিট হয়েছে। এছাড়া সরবরাহের ঘাটতির কারণে আমদানি করা গাড়ি বিক্রি ১৬ শতাংশ বেড়ে ২১ হাজার ৯১৩ ইউনিটে পৌঁছেছে।

নভেম্বরে দেশটিতে গাড়ি নির্মাণ বেড়েছে পাঁচ দশমিক এক শতাংশ। ওই সময় দেশটিতে মোট চার লাখ ১৫ হাজার ১০৬টি গাড়ি নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে হুন্দাই মোটরের উৎপাদন ৯ দশমিক এক শতাংশ বেড়ে এক লাখ ৭১ হাজার ৯৭৬ ইউনিট হয়েছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ।

বকেয়া মজুরির দাবিতে সম্প্রতি বিখ্যাত মোটর নির্মাতা কোম্পানি হুন্দাই মোটর, কিয়া মোটর এবং জিএম কোরিয়ার শ্রমিকদের একটি অংশ চলতি বছরে বেশ কয়েকবার ধর্মঘট পালন করেছে। হুন্দাই মোটরের ইতিহাসে গত ১২ বছরে এমন শ্রমিক অসন্তোষ হয়নি। ওই সময় দেড় লাখ কর্মী কর্মবিরতি দিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। এই সর্বাত্মক ধর্মঘটের কারণে উৎপাদন সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোম্পানির রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। কোরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি গাড়ি উৎপাদন করে কোম্পানিটি। গত বছর তাদের মোট বিক্রীত যানবাহনের প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন করেছে দেশেই। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এসব কোম্পানিতে উৎপাদন কম ছিল। ফলে গাড়ি রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতায় গাড়ি রফতানি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।