প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

১৪ কার্যদিবসে দর হারিয়েছে ২৫০ টাকা ৯০ পয়সা: কারণ জানা নেই ম্যারিকোর

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ১৪ কার্যদিবস ধরে কমছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ারদর। এর পেছনে কোম্পানির কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কিনা জানতে কোম্পানিকে শোকজ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। যদিও ডিএসইর শোকজের জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ারদর কমার পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

এদিকে শেয়ারদর বাড়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিকে শোকজ নোটিস পাঠানো নিয়মিত হলেও শেয়ারদর কমার কারণ জানতে চাওয়ার চিঠি ডিএসই দেয় না বললেই চলে।

এদিকে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক কার্যদিবস যাবৎ টানা কমছে এ কোম্পানির শেয়ারদর। গত ৬ ডিসেম্বর এ কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল এক হাজার ২০৮ টাকা ৫০ পয়সা। আর গতকাল পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে ৯৫৭ টাকা ৬০ পয়সায়। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির দর কমেছে ২৫০ টাকা ৯০ পয়সা, যা অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই। আর গতকালও কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে তিন দশমিক ৮১ শতাংশ বা ৩৮ টাকা। চলতি মাসের ৬ তারিখ থেকে গতকাল পর্যন্ত কোম্পাটির শেয়ারদর কমছে মোট ২৪৮ টাকা ৫০ পয়সা।

উল্লেখ্য, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ছয় মাসের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ৩১ মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ৩০০ শতাংশ দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৩ টাকা ৬১ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ১২ টাকা ৭৫ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৮৬ পয়সা। যা একই বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছিল ৫৪ টাকা ২৫ পয়সা।

গতকাল কোম্পানির পাঁচ কোটি ৯ লাখ ১৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ৫৩ হাজার ২৬৪টি শেয়ার মোট এক হাজার ৩৯৯ বার হাতবদল হয়। শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ বা ৩৮ টাকা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৯৬০ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৯৫৭ টাকা ৬০ পয়সা।

শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৯৩৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ১৯ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯৩৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে এক হাজার ৪৬৮ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ইপিএস হয়েছে ১৪ টাকা ১৭ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল ১৪ টাকা ৪২ পয়সা।

অর্থাৎ ইপিএস কমেছে ২৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ৩৭ পয়সা, যা একই বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছিল ৫৪ টাকা ২৫ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ১৩ টাকা ৬১ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময় ছিল ১২ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ৮৬ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৮৬ পয়সা, যা একই বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছিল ৫৪ টাকা ২৫ পয়সা। ৪০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ১১৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারমূল্য আয় (ইপি) অনুপাত ২১ দশমিক ৩৩ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। কোম্পানিটির ৩ কোটি ১৫ লাখ শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৯০ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে এক দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার।