প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

১৪ বছর পর তাঁতশুমারি করতে যাচ্ছে বিবিএস

 

মাসুম বিল্লাহ: এক সময় দেশে কাপড়ের সিংহভাগ জোগান দিত হস্তচালিত তাঁতশিল্প। এটি ছিল কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান খাত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে তাঁতশিল্পে। তবুও এ শিল্প টিকে আছে তার স্বাতন্ত্র্য নিয়ে। অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান ও তাঁতশিল্পের সার্বিক চিত্র জানতে তাই ১৪ বছর পর নতুন করে শুমারি আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

তাঁতশিল্পের অবস্থা জানতে সর্বশেষ ২০০৩ সালে শুমারি করেছিল বিবিএস। সে সময় দেশে হস্তচালিত তাঁতের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৫৬৫টি। আর এ শিল্পের সঙ্গে তখন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল আট লাখ ৮৮ হাজার নারী ও পুরুষ। এর মধ্যে নারী চার লাখ ১৫ হাজার এবং পুরুষ চার লাখ ৭২ হাজার। গত ১৪ বছরে দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ফলে তাঁতশিল্পের চালচিত্রেও পরিবর্তন এসেছে। তাই তাঁতশিল্পের সর্বশেষ অবস্থা জানতে বিবিএসের মাধ্যমে শুমারি পরিচালনার জন্য চলতি বছরের শুরুতে পরিকল্পনামন্ত্রী বরাবর আধা সরকারি পত্র দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তাঁতশিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৫ লাখ মানুষ নিয়োজিত। দেশের অভ্যন্তরীণ বস্ত্র চাহিদার ৪০ শতাংশ দেয় তাঁতশিল্প। বছরে এ শিল্পের উৎপাদিত কাপড়ের পরিমাণ প্রায় ৬৯ কোটি মিটার। আর জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাত প্রায় এক হাজার ২২৭ কোটি টাকার মূল্য সংযোজন করে থাকে। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রতি ১০ বছর পরপর এ শুমারি করার কথা। আর শুমারি করার দায়িত্ব বিবিএসের। দীর্ঘ শুমারি না হওয়ায় তাঁতশিল্পের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য নেই সরকারের কাছে। হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত না থাকায় এ খাতে প্রকল্প গ্রহণে বিঘœ দেখা দিচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশে বিদ্যমান তাঁত সংখ্যা, তাঁতপণ্য উৎপাদন, কাউন্টভিত্তিক সুতার চাহিদা, তাঁতিদের বিদ্যমান সমস্যা, মূলধন, বিপণন ব্যবস্থা, তাঁতশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, সর্বোপরি জাতীয় অর্থনীতিতে এ শিল্পের সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহণ এবং দেশের তাঁত খাত সম্পর্কিত একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ তথ্যভাণ্ডার সৃষ্টির জন্য শুমারি আয়োজন একান্ত অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ লক্ষ্যে বিবিএস কর্তৃক তাঁতশুমারি পরিচালনার জন্য মোট ৮২ কোটি চার লাখ টাকার প্রাক্কলন করে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদনে ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার প্রস্তাবিত প্রকল্পটির বিষয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে শুমারির চারটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলোÑহস্তচালিত তাঁতশিল্প খাতের বর্তমান অবস্থা জানা, এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, এ খাতে অন্তর্ভুক্ত মোট জনগোষ্ঠীর সংখ্যা জানা এবং এ খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর দক্ষতার বাস্তব চিত্র জানা। যার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে তাদের দক্ষতা উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে সুবিধা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কেএম মোজাম্মেল হক শেয়ার বিজকে বলেন, তাঁতশুমারির বিষয়টি এখনও প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের পর শুমারির বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হবে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অনুরোধে ২০০৩ সালে সর্বশেষ তাঁতশুমারি করে বিবিএস। ১৯৭৭ সালে তাঁত বোর্ডের যাত্রার পর ১৯৭৮ সালে প্রথম তাঁতশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দ্বিতীয় শুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। এবার চতুর্থ শুমারি আয়োজন করা হচ্ছে।