প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

১৪ মাস বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘ ১৪ মাস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম। দীর্ঘদিন থেকে পাথর বিক্রি বন্ধ থাকায় বাড়ছে লোকসানের বোঝা। সে সঙ্গে দেশের চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পাথর আমদানি করছেন। খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে প্রায় এক হাজার খনি শ্রমিক। খবর পরিবর্তন ডটকম।

দেশের এক পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে ২০০৭ সালে। প্রথম অবস্থায় খনি থেকে দৈনিক ১৫ থেকে ১৮’শ টন পাথর উত্তোলন হলেও, পরে তা নেমে আসে মাত্র ৫০০ টনে। এ অবস্থায় খনির উৎপাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেলারুশের প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি)। জিটিসি দায়িত্ব নেওয়ার পাথর উত্তোলন দৈনিক এক শিফট (৮ ঘণ্টা) থেকে বাড়িয়ে তিন শিফটে (২৪ ঘণ্টা) পাথর উত্তোলন শুরু করে। ফলে ৬ মাসের মধ্যেই দৈনিক উৎপাদন সাড়ে পাঁচ হাজার টনে উন্নীত হয়। কিন্তু চুক্তি মোতাবেক মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড মাইনিং প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট ( মেশিনপত্র ও যন্ত্রপাতি) সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় জিটিসি।

এদিকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রতিমাসে খনির লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এতে গত ১৪ মাসে খনির লোকসান হয়েছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। খনির বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নওশাদ ইসলাম লোকসানের কথা স্বীকার করে জানান, যে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে লোকসান তো কিছু হবেই। অন্যদিকে খনি বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত প্রায় এক হাজার শ্রমিক। দীর্ঘদিন থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় একেবারেই মজুত ফুরিয়েছে দেশের একমাত্র পাথর খনিটির। এখানকার ডিলাররা জানান, তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাথর সরবরাহের চুক্তি করেও পাথর সরবরাহ করতে পারছেন না। ঠিক যে মুহূর্তে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ চলছে, ঠিক সে মুহূর্তে খনিটি বন্ধ থাকায় চাহিদা মেটাতে পদ্মাসেতু নির্মাণসহ পাথর ব্যবহারকারীরা বাধ্য হয়েই ভারত থেকে পাথর আমদানি করছেন। পাথর আমদানিকারকের প্রতিনিধি হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ড এফ এজেন্ট আজিজুর রহমান জানান, শুধু হিলি স্থলবন্দর দিয়েই প্রতিদিন ভারত থেকে শত শত ট্রাকে পাথর আসছে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএমএন আওরঙ্গজেব জানান, প্রায় ১০০ কোটি টাকার নতুন ইকুইপমেন্ট (মেশিন ও যন্ত্রপাতি) ইতোমধ্যেই খনির ভূগর্ভে স্থাপন শুরু হয়েছে। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই খনিটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।