১৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে বিপিসি

সোহেল রহমান : নতুন পঞ্জিকা বছরের (২০১৮) জন্য দুটি ভিন্ন গ্রেডের ১৪ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপারেশন

(বিপিসি)। এর মধ্যে ‘আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি’ থেকে সাত লাখ টন ‘মারবান’ ও সৌদি আরবের ‘আরামকো’ থেকে সমপরিমাণ ‘এরাবিয়ান লাইট’ কেনা হবে। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যারেলপ্রতি তেলের দর পড়ছে বিদায়ী বছরে আমদানি করা গড় দরের চেয়ে প্রায় পাঁচ ডলার বেশি। আমদানিতব্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আনুমানিক মোট মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলার (চার হাজার ৯০২ কোটি টাকা)।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় এ জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় উভয় কোম্পানির সঙ্গেই চুক্তি নবায়ন করবে বিপিসি। বাজেট বরাদ্দ, সরকারি থোক বরাদ্দ, আইএফটিসি কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে গৃহীত ঋণের মাধ্যমে বিপিসি আমদানি ব্যয় পরিশোধ করবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী বছরে বিভিন্ন সময় আমদানি করা অপরিশোধিত ‘মারবান’ ও ‘এরাবিয়ান লাইট’-এর ব্যারেলপ্রতি গড় মূল্য ছিল যথাক্রমে ৫১ দশমিক ১২ ডলার এবং ৫২ দশমিক ৬৬ ডলার। এবার এ দুই গ্রেডের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ধরা হয়েছে ৫৫ দশমিক ৯৭ ডলার এবং ৫৭ দশমিক ৩১ ডলার। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রে ব্যারেলপ্রতি দর বাড়ছে যথাক্রমে চার দশমিক ৮৫ ডলার এবং চার দশমিক ৬৫ ডলার।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আমদানি করা এই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পুরোটাই বিপিসির আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। নতুন বছরে ইআরএল ‘শাট-ডাউন’ করার প্রয়োজন হবে না বিধায় সারা বছরই এখানে উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, ইআরএলের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৬ সালের আগস্টে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ব্যুরোকে (সিপিপি) ক নিয়োগ দেয় সরকার। চীনা অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি ডলার (পাঁচ হাজার ৪২৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা)।

 

 

 

 

সর্বশেষ..