দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

১৫ দিনেই এলো প্রায় এক বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স

২০২০ সালের জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি বাড়ছেই। চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনা ঘোষণার পর থেকেই এ প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের সাড়ে ছয় মাসে এক হাজার ৩৫ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৯৪০ কোটি ১২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ২৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

তথ্যমতে, ২০১৯ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে ১৬৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। এক মাসের হিসাবে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে গত ডিসেম্বরে। ২০১৯ সালের মে মাসে সর্বোচ্চ ১৭৪ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে চলতি মাস শেষে একক মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড ভেঙে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধির বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে। মূলত প্রণোদনার কারণে এ ইতিবাচক পরিবর্তনটি সাধিত হয়েছে। ধীরে ধীরে আমাদের জনগণের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। তারা হুন্ডি বা অন্যান্য অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পন্থা বাদ দিয়ে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালী করছে। এ জন্য প্রবাসীদের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারার কারণে চলতি অর্থবছর রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কার পরও বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘একমাত্র রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির অন্য সব সূচকের অবস্থা এখন খারাপ। রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নেমেছে। রাজস্ব আদায় কমছে। মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। চাপে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ। আমদানিও কমছে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগখরা কাটছে না। ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়। পুঁজিবাজারে তো মন্দা লেগেই আছে। সেসব কারণেই বলা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই এখন সচল রেখেছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা। তবে এ ধারা ধরে রাখতে হলে আমাদের অবশ্যই দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে হবে।’

এদিকে ‘২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে’ বলে আশা করছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ। গত ১৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ‘গত অর্থবছরে সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। প্রণোদনা দেওয়ায় এবার প্রবাহ খুবই ভালো। অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মতো।’

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, আগস্টে আসে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৪৭ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ডলার, নভেম্বরে ১৫৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার ও ডিসেম্বরে ১৬৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..