দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

১৫ বছরে এলটিইউ’র রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২ গুণ

রহমত রহমান: আয়কর বিভাগের মোট আহরিত রাজস্বের সিংহভাগ এলটিইউ’র মাধ্যমে আদায় হয়। বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয়কর বিভাগের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে এলটিইউ আদায় করেছে ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ, আদায় হয় ১৭ হাজার ৪২২ কোটি টাকা।

এলটিইউ সৃষ্টির প্রথম অর্থবছরে আদায় হয় ৭০ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরে এলটিইউ’র লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ডিসেম্বর পর্যন্ত আদায় হয়েছে আট হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এলটিইউ গঠনের ১৬তম বছর চলছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা থেকে বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২১২ কোটি টাকায়। আর আদায় এক হাজার ৪৭৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা থেকে বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ১৫ বছরে এলটিইউ’র আদায় বেড়েছে ১২ গুণ।

সূত্র জানায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে এলটিইউ’র লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ১০০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় এক হাজার ৪৭৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার বিপরীতে দুই হাজার ২৫০ কোটি ৬২ লাখ টাকা আদায় হয়। প্রবৃদ্ধি হয় ৫২ শতাংশ। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তিন হাজার ১০০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় তিন হাজার ১০৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি ৩৮ শতাংশ। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তিন হাজার ৯৫০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় চার হাজার ৪২ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ৩০ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে চার হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় চার হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ২৩ শতাংশ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৮৯০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ছয় হাজার ২৯১ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ২৭ শতাংশ।

সূত্র আরও জানায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে সাত হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় সাত হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ৯ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ২৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ১২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ২৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ১২ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি চার দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৪১৬ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ১৪ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি দুই দশমিক শূন্য পাঁচ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৬ হাজার ৪১২ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ১৬ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২১ হাজার ৪১২ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ১৭ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি পাঁচ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

সূত্র আরও জানায়, এলটিইউ একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এখানে মোট করদাতার সংখ্যা এক হাজার ১৫৯ এবং কোম্পানি করদাতা ৪৩৯। এর মধ্যে ৬২টি ব্যাংক, পাঁচটি মোবাইল কোম্পানি, ৩৯টি লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, ৪৭টি মার্চেন্ট ব্যাংকিং, ৪৮টি সাধারণ বিমা, ৩২টি জীবন বিমা, ১২টি ফার্মাসিউটিক্যালস, পাঁচটি টোব্যাকো ম্যানুফ্যাকচারিং, ২৭টি টেক্সটাইলস, ১৪টি গার্মেন্ট, ৯টি মাল্টিপল প্রোডাক্টস, ৭৪টি ম্যানুফ্যাকচারিং, ৬৫টি অন্যান্য কোম্পানি। আর ব্যক্তি করদাতা ৭২০।

সূত্রমতে, এলটিইউ কোম্পানি করদাতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর আদায় ব্যাংক খাত থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে কোম্পানি করদাতা থেকে এলটিইউ আদায় করে ১১ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে আদায় হয় ৩৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ, ছয় হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। এছাড়া মোবাইল কোম্পানি দুই হাজার ২১৪ কোটি, টোব্যাকো ম্যানুফ্যাকচারিং এক হাজার ২১১ কোটি, লিজিং ২৪০ কোটি, ফার্মাসিউটিক্যালস ২১৭ কোটি, জীবন বিমা ১৪৯ কোটি, সাধারণ বিমা ১৪৪ কোটি, মার্চেন্ট ব্যাংকিং ৭০ কোটি ও অন্যান্য কোম্পানি ৭৭১ কোটি টাকা। আর উৎসে কর্তন থেকে আদায় হয় পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ব্যক্তি করদাতা থেকে আদায় ২৭৮ কোটি টাকা।

সূত্র আরও জানায়, দেশের ৫৮ খাত থেকে উৎসে আয়কর আহরণ করে এনবিআর। উৎসে করের বেশিরভাগ অর্থ আসে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু খাত থেকে। উৎসে আয়করের বেশিরভাগ জোগান দেয় এলটিইউ। বিদায়ী অর্থবছরে এলটিইউ’র মোট আহরিত রাজস্বের ৩১ শতাংশ আদায় হয় উৎসে কর থেকে। আর চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাত থেকে আদায় প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।

সূত্র জানায়, কর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ফাংশনাল পদ্ধতি প্রবর্তনের লক্ষ্যে ২০০৩ সালের নভেম্বরে এলটিইউ গঠন করা হয়। যুক্তরাজ্যের ডিএফআইডি’র সহায়তায় আরআইআরএ প্রকল্পের আওতায় এনবিআরের অধীনে সিআইসি ও এলটিইউ গঠিত হয়। টিএসিটিএস প্রকল্পের আওতায় ২০১১ সালে এলটিইউ ঢাকার অধীনে চট্টগ্রামে একটি শাখা চালুর মাধ্যমে কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়। আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব প্রশাসনের মাধ্যমে করদাতাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলে ফাংশনাল ব্যবস্থাপনার আওতায় কাক্সিক্ষত সেবাদানের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই এলটিইউ’র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। ২০১৯ সালে এনবিআর ১৪৩ করদাতাকে সম্মাননা  দেয়, যার মধ্যে ৩২ জনই এলটিইউ’র করদাতা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..