দিনের খবর শেষ পাতা

১৫ মার্চের মধ্যে এলসির সব চাল আনতে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে বেসরকারিভাবে আমদানি করা সব চাল আনার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যেসব আমদানিকারক ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন কিন্তু চাল বাজারজাত করতে পারেননি, তাদের এলসি করা সম্পূর্ণ চাল বাজারজাতকরণের জন্য আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলো।

এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য মোট ৩২০টি প্রতিষ্ঠানের অনকূলে বরাদ্দকৃত চাল আমদানির জন্য এলসি খোলার সময়সীমা ছিল গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দপত্রে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে আবশ্যিকভাবে আমদানির সব চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যারা ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঋণপত্র (লেটার অব ক্রেডিট-এলসি) খুলতে পারেনি, তাদের বরাদ্দপত্র বাতিল করা হয়েছে।

জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৭ ডিসেম্বর বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য বৈধ আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ ১০ জানুয়ারির মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। এরপর বিভিন্ন শর্তে বেসরকারি পর্যায়ে সর্বমোট ৩২০ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ অনুমতির চিঠি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

আমদানির শর্তে বলা হয়, বরাদ্দপত্র ইস্যুর সাত দিনের মধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হবে। এ-সংক্রান্ত তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিকভাবে ই-মেইলে জানাতে হবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা এক থেকে পাঁচ হাজার টন বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের এলসি খোলার ১০ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০ দিনের মধ্যে বাকি চাল বাজারজাত করতে হবে। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান পাঁচ হাজার টনের চেয়ে বেশি চাল আমদানির বরাদ্দ পেয়েছে তাদের এলসি খোলার ১৫ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ৩০ দিনের মধ্যে বাকি ৫০ শতাংশ চাল এনে বাজারজাত করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়।

দেশের বাজারে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। দেশের বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ৫০ টাকায় ওঠে যায়। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার গুদামে মজুতের দিনক্ষণ ঠিক করে দেয়। এরপরও দাম নিয়ন্ত্রণে না আসায় চাল আমদানির জন্য ট্যাক্সের পরিমাণ কমায়। পরে বিদেশ থেকে চাল আমদানির সুযোগ দেয়া হয়। এসবের পরও বাজারে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..