সারা বাংলা

১৫ হাজার পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

দৌলতপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আকস্মিক বন্যার পানি নেমে গেছে। মানুষের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও কাদা-পানির মধ্যে বসবাস করছে তারা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি সংস্কারের পাশাপাশি কৃষিকাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন চাষিরা।

সম্প্রতি উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে ৩৭ গ্রাম বন্যাকবলিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে ১৫ হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ডিঙি নৌকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তারা। গত এক সপ্তাহ ধরে পানি কমতে থাকায় বন্যাকবলিত মানুষ নতুন করে দুর্ভোগে পড়ে। কাদা-পানির মধ্যে কষ্টে বসবাসের পাশাপাশি দুর্বিষহ জীবনযাপন চলছে বন্যাকবলিতদের। এদিকে বন্যার পানি কমতে থাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত এলাকার কৃষক আবদুল জব্বার জানান, এ বছর চরের ২০ বিঘা জমিতে আগাম মাষকলাই চাষ করেছিলেন। ফসলও ভালো হয়েছিল। কিন্তু বন্যায় সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি বছর পদ্মায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পেলেও মাষকলাই চাষের আগেই পানি নেমে যায়। ফলে কৃষক চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে মাষকলাইয়ের চাষ করে থাকে। আর এ ফসল থেকেই সারা বছরের আর্থিক চাহিদা মেটানো হয়। কিন্তু এবারের বন্যায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে গেছে। তবে বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ বেড়েছে নতুন করে। কাদা-পানির মধ্যে এখন তাদের বসবাস করতে হচ্ছে। পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে না পড়লেও দু-একজন করে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কৃষিজমি থেকে পানি নেমে চাষযোগ্য হলে কৃষক নতুন করে কৃষিকাজে ব্যস্ত হবে।

চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ জানান, বন্যার পানি কমতে থাকায় কৃষিনির্ভর চিলমারীবাসী নতুন উদ্যমে কৃষিকাজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এবারের বন্যায় উঠতি ফসলসহ বাড়িঘরের যে ক্ষতি হয়েছে, সরকারি সহায়তা ছাড়া তা পূরণ করা সম্ভব নয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস জানান, বন্যায় এক হাজার ৬৭১ হেক্টর জমির ফসল প্লাবিত হয়েছিল। টাকার হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শেষ হবে।

এদিকে, গত মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এবারের বন্যায় রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে প্রায় ১২ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। অন্যান্য ক্ষতি হয়েছে ১০ লক্ষাধিক টাকার। বন্যার পানি কমছে। এখন বন্যাকবলিত রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে, সেজন্য একটি মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

সর্বশেষ..