প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

১৬ কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করছে দুদক

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নজরুল ইসলাম: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৬৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা চলমান। এবার দুদকের দুটি মামলায়ও তিনি ফাঁসছেন। আর দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা রসময় মণ্ডল (পরিচিতি নম্বর ২২৫৯) বিভাগীয় মামলায় লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কৃত’ হয়েছেন। তিনিও দুদকের একটি মামলায় ফাঁসছেন। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই দুজনসহ মোট ১৬ কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যেকোনো দিন মামলাগুলো দায়ের করা হতে পারে। কমিশনের অনুমোদনের পর গত ১৮ মে এক অফিস আদেশে মামলাগুলো দায়েরের তথ্য জানানো হয়। দুটি মামলা দায়ের করবেন প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। বাকি দুটি সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা) ফরিদপুর থেকে দায়ের করা হবে।

উপপরিচালক হাফিজুল ইসলামের একটি মামলায় ঢাকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক আবুল হাশিম, চট্টগ্রামের দেওয়ান হাট হার্টিকালচার সেন্টারের সাবেক নার্সারি তত্বাধায়ক কাজী নুরুল আবছার, দেওয়ান হাট হার্টিকালচার সেন্টারের সাবেক উচ্চমান সহকারী বর্তমানে পতেঙ্গা মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আব্দুল হালিম ওরফে মোহাম্মদ আবদুল হালিম, টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ও টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিসের সাবেক ক্যাশিয়ার বর্তমানে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ উপপরিচালকের কার্যালয়ের ক্যাশিয়ার ফিরোজ খাঁন আসামি। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডবিধি ৪২০/৪৬৫/৪৬৬/৪৬৭/ ৪৬৮/৪৭১/৪০৯/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হবে।

উপপরিচালক হাফিজুল ইসলামের আরেকটি মামলায় খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের স্টোরকিপার অলিউল্লা প্রধান, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের হিসাব শাখার সিনিয়র হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নাফিসা সরকার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (আয়ন ও ব্যয়ন) আবুল হাসেম এবং প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের ক্যাশিয়ার জাহিদ হাসান আসামি। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডবিধি ৪২০/৪৬৫/৪৬৬/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৯/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত ২০১৯ সালের ২১ জুলাইয়ের এক অফিস আদেশে বলা হয়, সৈয়দ শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৬৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তাই বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার পিআরএল ও পেনশন-সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিষয়াদি স্থগিত থাকবে। বিভাগীয় মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে এই উপসচিব শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সৈয়দ শরীফুল ইসলাম এখন অবসরে। বিভাগীয় মামলা দায়েরের দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই)। তারাই বিস্তারিত বলতে পারবে। তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে। কার্যক্রম চলছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উপপরিচালক (লিগ্যাল ও সাপোর্ট সার্ভিসেস) আনোয়ার হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সৈয়দ শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাটি চলমান। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক আবুল হাশিমের বিভাগীয় মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে।’

ফরিদপুরের একটি মামলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকার উপজেলা কৃষি অফিসার (এল আর) ও সাবেক কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি অফিসার রসময় মণ্ডল, কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আলী ও কাশিয়ানী উপজেলার ব্যবসায়ী শওকত হোসেন মোল্যা আসামি। আরেকটি মামলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাগুরার সাবেক অতিরিক্ত উপপরিচালক (বর্তমানে কুষ্টিয়া) ও সাবেক ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসের মোকাদ্দম (পিপিএম) মজিবুর রহমান ভ‚ইয়া আসামি। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডবিধি ৪২০/৪৬৫/৪৬৬/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৯/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা দুটি দায়ের করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২০২১ সালের ১৬ মার্চের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা রসময় মণ্ডল (পরিচিতি নম্বর ২২৫৯) বিভাগীয় মামলায় (নম্বর-০২/২০২০) লঘুদণ্ড হিসেবে তিরস্কৃত হয়েছেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ৩ (খ), ৩ (ঘ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও দুর্নীতির দায়ে একই বিধিমালার বিধি ৪ (২) (ক) মোতাবেক ‘তিরস্কার’ দণ্ড দেয়া হয়েছে।’

তবে মোট কত টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে, তা দুদক থেকে জানানো হয়নি। মামলা দায়েরের পর টাকার পরিমাণ ও বিস্তারিত ঘটনা জানানো হবে বলে দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে।