প্রচ্ছদ শেষ পাতা

১৭ কার্যদিবসে দ্বিগুণ দর মুন্নু জুট স্টাফলার্সের

আবারও অস্বাভাবিক উত্থান

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মুন্নু জুট স্টাফলার্সের শেয়ার যেন আলাদিনের চেরাগ। না চাইতে মনোবাসনা পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের, যে কারণে এ কোম্পানির শেয়ারের পেছনে ছুটছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এর জের ধরে মাত্র ১৭ কার্যদিবস আগে যারা এই শেয়ারে পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন, এখন তাদের পুঁজি দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অথচ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নেই কোনো সংবেদনশীল তথ্য।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৭ কার্যদিবস আগে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ারদর ছিল ৭২৫ টাকা। গতকাল এই শেয়ারের দর স্থির হয়েছে এক হাজার ৪১৯ টাকায়।
বিষয়টি নিয়ে পুঁজিবাজারে ঘোর সমালোচনাও রয়েছে, কিন্তু এসবকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই কোম্পানির শেয়ার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটি গল্পের আলাদিনের চেরাগকেও হার মানিয়েছে।
এদিকে অস্বাভাবিক এই দর বৃদ্ধিকে সন্দেহজনক মনে করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই, যার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এই কোম্পানির কাছে শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ প্রদান করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের কাছে শেয়ারদর বাড়তে পারে এমন কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চেয়ে মুন্নু জুট স্টাফলার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানি সচিব বিনয় পাল শেয়ার বিজকে বলেন, আমাদের কাছে কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই। কেন দর বাড়ছে তাও বলতে পারছি না। লোকে বলে আমাদের শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে, তাহলে তারা এটা বের করেন না কেন? আসলে এই শেয়ারটার ধরনই এমন যখন বাড়ে তখন এভাবেই বাড়ে, আবার যখন কমে তখন দর অনেক কমে যায়।
এর আগে গত বছর এই কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়তে দেখা যায়। তখন শেয়ারদর ৫২৯ টাকা থেকে বেড়ে পাঁচ হাজার ৬৩৪ টাকায় বিক্রি হয়। এটি পরিণত হয় বাজারের সবচেয়ে দামি শেয়ার হিসেবে। তখন কোম্পানিটির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। যদিও সেবার কোম্পানি ৩৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করে। কিন্তু এই লভ্যাংশের হিসাবেও প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার অতিমূল্যায়িত ছিল বলে মন্তব্য করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গত বছর লভ্যাংশ প্রদানের পর শেয়ারটির দর কমতে শুরু করে। দর কমতে কমতে একসময় যা ৬৫৬ টাকায় চলে আসে। সেখান থেকে আবারও অস্বাভাবিকভাবে দর বাড়তে শুরু করে। বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, এই কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে। একটি চক্র এই শেয়ার নিয়ে খেলছে।
জানতে চাইলে ডিসএই পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, যখন কোনো কোম্পানির শেয়ার সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া বাড়তে শুরু করে, তখন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ আর্থিক ভিত্তি শক্ত না হলে যে কোনো সময় এসব শেয়ার থেকে তারা প্রতারিত হতে পারেন।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী এই শেয়ারদর এক হাজার টাকার ওপরে যাওয়ার কথা নয়, কিন্তু তারপরও কেন এর দর বাড়ছে আর বিনিয়োগকারী কেন এই শেয়ার কিনছে, তা বোধগম্য নয়। এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে, এটা একরকম প্রকাশ্যই।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি পাঁচ বছর ধরে নামমাত্র মুনাফা করছে। স্বল্পমূলধনি ওই কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মধ্যে ৪২ দশমিক ৯৮ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। এছাড়া ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ধারণ করছেন। বাকি শেয়ারের মধ্যে চার দশমিক ৫৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশিদের কাছে।

 

সর্বশেষ..