বাণিজ্য সংবাদ

১৮ হাজার কোটি টাকার সাত প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৮ হাজার ১৯১ কোটি টাকা ব্যয় সংবলিত সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান আসবে প্রায় ছয় হাজার ৬২২ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১১ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন সভায় সভাপতিত্ব করেন।
অনুমোদিত প্রকল্প তালিকায় প্রথমে রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর’ প্রকল্পটি। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ছয় হাজার ৬২২ কোটি এবং চীনের ঋণ ১১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা।
প্রকল্পটির আওতায় ২৩৯ দশমিক ১৪ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে। এর মধ্যে ১৭৬ দশমিক ২৪ কিলোমিটার মূল রেলপথ ও ৬২ দশমিক ৯০ কিলোমিটার লুপ লাইন রয়েছে। জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। দরপত্র ছাড়াই দরকষাকষির মাধ্যমে এ ঠিকাদার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে কিলোমিটারপ্রতি যে ব্যয় পড়ছে, তা অন্যান্য প্রকল্পের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। যদিও একই ব্যয়ে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাগুরা-শ্রীপুর জেলা মহাসড়ক বাঁক সরলীকরণসহ সম্প্রসারণ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নতুন কার্যালয় ভবন এবং অডিটরিয়াম নির্মাণ, মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন ফ্যাক্টরি স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিসিএসআইআর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ এবং ইনডোর ফার্মিং গবেষণাসংক্রান্ত সুবিধাদি স্থাপন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ঘুঘুমারী থেকে ফুলুয়ারচর ঘাট ও রাজিবপুর উপজেলা সদর থকে মোহনগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প।
গতকালের একনেক সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনার কথা জানান। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা সরকারি কর্মকর্তাদের সপরিবারে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা বিশেষ করে প্রকল্প পরিচালকদের তো থাকতেই হবে।
তিনি জানান, অনেক প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প এলাকায় থাকেন না, তেমনি অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাও কর্মস্থলে থাকেন না। বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ওই নির্দেশনা দিয়েছেন।

সর্বশেষ..