প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

১৯২৪ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলো বিএটিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক হাজার ৯২৪ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলাটি বাতিল করে দেন। এর মাধ্যমে সাত বছর পর প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ডিসেম্বরে অব্যাহতি পায় বিএটিবি। বিষয়টি ডিএসই’কে বিবৃতি আকারে জানানো হলে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। ২০০৯-২০১০ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরে বিএটিবি’র বিরুদ্ধে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ এই রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠে।

বিএটিবি’র অনুযায়ী ডিএসই এর ওয়েবসাইটে বলা হয়, বিএটিবি আপিল বিভাগে যে রিভিউ পিটিশন করেছে, তা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিএটিবিকে অব্যাহতি দিয়েছে। বিএটিবি ২ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অব্যাহতির সেই সনদ নিয়েছে। আপিল বিভাগ বলেছেন, এনবিআরের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক হিসেবে দাবি করা এক হাজার ৯২৪ কোটি টাকা অন্যায়ভাবে চাওয়া হয়েছে। ফলে এই অভিযোগ থেকে কোম্পানিকে অব্যাহতি দেয়া হলো।

আরো বলা হয়, বিএটিবি জাতীয় বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্তর থেকে এক ধাপ নিচের স্তরে নামিয়ে এনে ব্রিস্টল ও পাইলট ব্র্যান্ডের সিগারেট বিক্রি করে। মূল্য কমিয়ে ফেলায় এ দুটি ব্র্যান্ডের সিগারেট থেকে সরকারের রাজস্বও কমে যায়। এনবিআর হিসাব করে দেখতে পায়, ব্র্যান্ড দুটির মূল্য না কমিয়ে আগের স্তরে রাখলে কোম্পানিটির কাছ থেকে ২০০৯-২০১০ থেকে ২০১২-২০১৩ অর্থবছর পর্যন্ত অতিরিক্ত ১৯২৪ কোটি টাকা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পাওয়া যেত। দাম কমানোর ফলে এই পরিমাণ রাজস্ব কম পেয়েছে এনবিআর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) এই অর্থ দাবি করে বিএটিবিকে নোটিশ দেয়। যাতে বলা হয়, মিথ্যা ঘোষণা ও তথ্য দিয়ে সরকারকে এই পরিমাণ রাজস্ব কম দিয়েছে বিএটিবি।

বলা হয়, বিএটিবি ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল উচ্চ আদালতে আপিল করলে আদালত এক বছরের ৩০ মার্চ স্থগিতাদেশ দেয়। পরে বিএটিবি মামলায় হেরে যায়। পরে আপিল বিভাগ ২০১৮ সালের জুলাই মাসে শুনানি শেষ করে। ২৫ জুলাই আপিল বিভাগ যে রায় দেয় তা বিএটিবি’র পক্ষে যায়। পরে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ এনবিআরের পক্ষে রিভিউ পিটিশন করা হয়। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ বিএটিবি’র পক্ষে রায় দেয় এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ থেকে বিএটিবিকে অব্যাহতি দেয়।

###