দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

১৯ ব্যাংকের বিনিয়োগ ৫৭৫ কোটি টাকা

পুঁজিবাজার উন্নয়নের বিশেষ তহবিল

শেখ আবু তালেব: সুদহার কমিয়েও পুঁজিবাজার উন্নয়নে গঠিত বিশেষ তহবিল থেকে বিনিয়োগে আগ্রহী করা যাচ্ছে না ব্যাংকগুলোকে। এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো তহবিল থেকে মাত্র ৫৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ১৯টি ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের আকার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য।

পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও তারল্য জোগান দিতে প্রতি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকার ‘বিশেষ তহবিল’ গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছিল নীতি সহায়তা। এ পরিমাণ বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজার এক্সপোজার লিমিটের বাইরে রাখা হয়। বিনিয়োগের জন্য তারল্য জোগান দিতে স্বল্প সুদে অর্থ ধার দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

নীতি সহায়তায় উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকগুলো ইচ্ছে করলে তাদের নিজস্ব উৎস থেকে এ তহবিল গঠন করতে পারবে। অথবা ট্রেজারি বিল ও বন্ড বন্ধক রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কম সুদে ধারও নিতে পারবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তহবিল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ তহবিলের মেয়াদ ধরা হয়েছে পাঁচ বছর।

জানা গেছে, দেশে কার্যক্রমে থাকা তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা ৫৭টি। এ হিসাবে পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিশেষ তহবিলে ১১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা। প্রথমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এগিয়ে এলেও পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎপরতায়।

যদিও এ পর্যন্ত মাত্র ১৯টি ব্যাংক বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এর আকার হওয়ার কথা তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা। কিন্তু এ পর্যন্ত ১৯ ব্যাংকের গঠিত বিশেষ তহবিলের আকার দাঁড়িয়েছে মাত্র এক হাজার ৭৭০ কোটি টাকার। এর মধ্যে থেকে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে মাত্র ৫৭৫ কোটি টাকা।

জানা গেছে, গত বছরের মার্চ থেকেই সূচক অবনতি হচ্ছিল পুঁজিবাজারের। বিনিয়োগ খরার ব্যাংকগুলো অভিযোগ করেছিল তারল্য সংকটকে। বিনিয়োগকারীদের দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। এতে কিছুটা গতি ফেরে দেশের পুঁজিবাজারে। কিন্তু ব্যাংকগুলো যে গতিতে বিনিয়োগ শুরু করেছিল, তাতে ভাটা পড়েছে সম্প্রতি। সাম্প্রতিক উল্লম্ফনের বাজারেও ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে গতি আসেনি।

নীতি সহায়তা ঘোষণার সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আর্থিক খাতের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পুঁজিবাজারে তফসিলি ব্যাংকগুলোর নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগের আইন রয়েছে। দেশের পুঁজিবাজার ও মুদ্রা বাজারের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন গাড়ি হিসেবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্রমাগত তারল্য প্রবাহ বজায় রাখার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান (মার্চেন্ট ব্যাংক ও ডিলার লাইসেন্সধারী ব্রোকারেজ হাউস) এবং অন্যান্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসকে শুধু পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় এ তহবিল সরবরাহের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তহবিল গঠনে রেপোর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এ তহবিলের অর্থ শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত পন্থা ও হারে শুধু পুঁজিবাজারে সরাসরি বা সাবসিডিয়ারি এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা যাবে। বিশেষ তহবিলের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো পাঁচ শতাংশ সুদে রেপোর মাধ্যমে অর্থ ধার নিতে পারত।

সম্প্রতি রেপো হার পরিবর্তন হওয়ায় এ তহবিলের জন্য সুদহার দশমিক ২৫ শতাংশ কমিয়ে চার দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়। আর ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ সাত শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে ঋণ দিতে পারবে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..