শেষ পাতা

২০টি বাসে করে রোহিঙ্গাদের নেয়া হলো ভাসানচরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আগেই। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের উখিয়া থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ২০টি বাস। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে রোহিঙ্গাদের ১০টি বাসে তোলা হয়।

দ্বিতীয় দফায় আরও ১০টি বাস রোহিঙ্গাদের নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে ছেড়ে যায়।  রোহিঙ্গাদের বহনকারী বাসগুলোর সামনে ও পেছনে র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অফিশিয়াল বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সঠিক সংখ্যাও জানা যায়নি।

চট্টগ্রাম থেকে শুক্রবার সকালে তাদের জাহাজে করে নৌপথে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-সংলগ্ন ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পে বুধবার রাতেই ওই রোহিঙ্গাদের আনা হয়। বাসগুলোও আনা হয় রাতেই। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ বলেছে, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছে, তার সঙ্গে জাতিসংঘের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে, শিগগিরই রোহিঙ্গাদের প্রত্যন্ত ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ করা। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রাম বন্দর নগরী থেকে ভাসানচর পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচর পাঠানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, সেখানে স্থানান্তরিত শরণার্থীদের পুরোপুরি সম্মতি নেওয়া এবং জাতিসংঘের কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এর আগে ২ ডিসেম্বর ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তরকরণ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ এক বিবৃতি জানায়, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কক্সবাজার থেকে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ভাসানচরে প্রারম্ভিক স্থানান্তরের কাজ আগামী কিছুদিনের মধ্যে শুরু করার সম্ভাবনা বিষয়ক কিছু প্রতিবেদন সম্পর্কে জাতিসংঘ অবগত রয়েছে।

ওই স্থানান্তরের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অথবা শরণার্থীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। স্থানান্তরের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জাতিসংঘের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ভাসানচর স্থানান্তর নিয়ে জাতিসংঘের কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিবৃতিতে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্ধৃতি দিয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..