দিনের খবর শেষ পাতা

২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির প্রস্তাব নেপালের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে নেপাল। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে এখন যে সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করা হয়, তাতেই এ বিদ্যুৎ দিতে চায় দেশটি। গতকাল এক ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির তৃতীয় সভায় এ প্রস্তাব দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা আগামী মাসে কমে আসবে। এরপর গ্রীষ্মের আগে অর্থাৎ মার্চের আগে বাড়তি চাহিদা থাকবে না। এ অবস্থায় এখনই নেপালের ২০০ মেগাওয়াট নিতে পারব না। তবে গ্রীষ্মের সময় এ বিদ্যুৎ আমরা নিতে পারি।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত থেকে যে বিদ্যুৎ আমদানি করছে, সেটার ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে ভারতের খোলাবাজার থেকে। ভারতের বেসরকারি কোম্পানি পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেডের মাধ্যমে এ বিদ্যুৎ কেনা হয়।

চেয়ারম্যান বলেন, পিটিসি এখন ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারছে না বাংলাদেশকে। আমরা নেপালকে বলেছি, পিটিসির সঙ্গে আলোচনা করতে, যাতে নেপালের এ ২০০ মেগাওয়াট পিটিসির সঞ্চালন লাইন দিয়ে বাংলাদেশকে দিতে পারে। তবে এখন নয়। এটি আগামী মাসে শুরু করতে পারি, যাতে গ্রীষ্মের শুরুতে নেপালের বিদ্যুৎ নিতে পারি।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভায় দু’দেশের বিদ্যুৎ খাতে অধিকতর সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান এবং নেপালের পক্ষে বিদ্যুৎ, পানিসম্পদ ও সেচ সচিব দেবেন্দ্র কার্কি নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

স্টিয়ারিং কমিটির সভায় নেপালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিপুল সম্ভাবনা ও উভয় দেশের বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। ঋতুভেদে বিদ্যুৎ চাহিদার তারতম্যের আলোকে পারস্পরিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের বিষয়টিও সভায় বিবেচনা করা হয়।

নেপালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।

প্রসঙ্গত, নেপাল সরকার সেদেশে সম্ভাব্য যে পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চিহ্নিত করেছে, তার কোনটিতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে, সে বিষয়ে চলমান সমীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সভায় জানানো হয়, নেপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন ও যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করা, উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানির পন্থা নির্ধারণ এবং আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট টেকনিক্যাল টিম (জেনারেশন) ও জয়েন্ট টেকনিক্যাল টিম (ট্রান্সমিশন) কাজ করছে। তবে সঞ্চালন লাইনের অংশবিশেষ ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে নির্মিত হবে। তাই বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নির্ধারিত হবে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া ভারতের জিএমআর গ্রুপ নেপালে বাস্তবায়িতব্য ৯০০ মেগাওয়াট আপার কার্নালি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বাংলাদেশে আমদানির অগ্রগতির বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।

সভায় বাংলাদেশ ও নেপালে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বাংলাদেশের সোলার হোম সিস্টেম কার্যক্রম ও নেট মিটারিং কার্যক্রমের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের স্রেডা ও নেপালের অল্টারনেটিভ এনার্জি প্রমোশন সেন্টারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২০১৯ সালের জুনে কক্সবাজারে বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ ও জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির দ্বিতীয় সভা হয়েছিল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..