প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি কমেছে ৫.৯%

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সদ্য শেষ হওয়া বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি আগের বছরের তুলনায় কমেছে। এ নিয়ে পর পর দুবছর দেশটির রফতানি কমলো। পাশাপাশি আমদানিও কমেছে। ফলে গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বেড়েছে। খবর সিনহুয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প, বাণিজ্য ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশটির অর্থনীতির প্রায় অর্ধেক আসে রফতানি খাত থেকে। ২০১৬ সালে দেশটির মোট রফতানি হয়েছে ৪৯৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের। আগের বছরের তুলনায় এটি ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কম। এর আগে ২০১৫ সালেও রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছিল। তবে ২০১৪ সালে এটি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধিতে ছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯৫৬ সালের পর টানা দুই বছর রফতানি কমার ঘটনা এটি দ্বিতীয়। ১৯৫৭ ও ’৫৮ সালে রফতানি কমেছিল ৯ দশমিক ৭ ও ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

এদিকে রফতানির পাশাপাশি আমদানিও কমেছে দেশটির। ২০১৬ সালে আগের বছরের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আমদানি ৭ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪০৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে গত বছর দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ঘটেছে ৮৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে শ্লথগতির কারণে গত দুই বছর দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রফতানি কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে শুরু হওয়া ২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি ২ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে  ডিসপ্লে প্যানেল, কম্পিউটার ও তেলপণ্যের মতো প্রধান রফতানি পণ্যের চাহিদা বাড়ায় রফতানি ঘুড়ে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে রফতানির পাশাপাশি আমদানিও ২০১৭ সালে ৭ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় আমদানি বাড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ২০১৭ সালে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৭৫ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বকেয়া মজুরির দাবিতে গত বছর বিখ্যাত মোটর নির্মাতা কোম্পানি হুন্দাই মোটর, কিয়া মোটর ও জিএম কোরিয়ার শ্রমিকদের একটি অংশ বেশ কয়েকবার ধর্মঘট পালন করেছে। হুন্দাই মোটরের ইতিহাসে গত ১২ বছরে এমন শ্রমিক অসন্তোষ হয়নি। ওই সময় দেড় লাখ কর্মী কর্মবিরতি দিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। এই সর্বাত্মক ধর্মঘটের কারণে উৎপাদন সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোম্পানির রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। কোরিয়ায়ই সবচেয়ে বেশি গাড়ি উৎপাদন করে কোম্পানিটি। গত বছর তাদের মোট বিক্রীত যানবাহনের প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন করেছে দেশেই।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এসব কোম্পানিতে উৎপাদন কম ছিল। ফলে গাড়ি রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতায় গাড়ি রফতানি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

বিশ্বের দশম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অর্থনীতির জন্য সামগ্রিকভাবে ২০১৬ সালটি ভালো যায়নি। একের পর এক কোরীয় কনগ্লোমারেট নানা কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বহুল আলোচিত নোট৭ স্মার্টফোন বিস্ফোরণের কারণে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসকে বিপুল পরিমাণ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও স্যামসাংকে ইমেজ সংকটের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম ও বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম নৌপরিবহন কোম্পানি হানজিন শিপিং লাইনস ভেঙে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম রিটেইলার লোটে গ্রুপের কর্ণধারকে বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসভঙ্গের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। জাহাজ নির্মাণ সংস্থা স্যামসাং, হুন্দাই, এসটিএক্স; গাড়ি নির্মাতা হুন্দাই ও ইস্পাত কোম্পানি পসকো পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। করপোরেট কোরিয়ার এই দুর্দশার মধ্যে বাড়তি শঙ্কার কারণ হয়ে এসেছে কোরীয় পরিবারগুলোর রেকর্ড পরিমাণ ঋণ।

এদিকে সম্প্রতি দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও দেখা দেয়। দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ৯ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাইকে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিসংশন করা হয়েছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে অভিসংশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হোয়াং কিয়ো আন অভ্যন্তরীণ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ৯ বিচারপতির ৬ জনই পার্ককে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে পরিত্যাগের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন। আর পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের কথাও বলা হয়।

এ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।