প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি ও রাজস্ব আহরণ বেড়েছে

কাজী আশরাফুল আজাদ, যশোর: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৮৩ হাজার ৪২০ দশমিক ৪৭ টন পণ্য বেশি আমদানি হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আমদানি হয়েছিল পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ৬১৫ দশমিক ৩৯ টন। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আমদানি হয়েছে ছয় লাখ ১১ হাজার ৩৫ দশমিক ৮৬ টন। এ সময় রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ৫৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ হয়েছে। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৯১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সেখানে হয়েছে তিন হাজার ৫১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে আমদানি হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৪২ টন পণ্য, আগস্টে ৭৬ হাজার ৮৩২ দশমিক ৬১ টন, সেপ্টেম্বরে ৫৫ হাজার ৩৫৩ দশমিক ১২ টন, অক্টোবরে আমদানি হয়েছে ৬৮ হাজার ৮৭০ দশমিক ৬৬ টন, নভেম্বরে আমদানি হয়েছে ৯৫ হাজার ৭৮ দশমিক ৪৯ টন, ডিসেম্বর মাসে হয়েছে ৯৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ১২ টন এবং জানুয়ারি মাসে আমদানি হয়েছে ৯৭ হাজার ৯০৮ দশমিক ১৮ টন পণ্য।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, আমদানিকারকরা কমপক্ষে দুই মাস আগে পণ্যে আমদানির এলসি খুলে থাকেন। যে কারণে গত মাসে ঘোষণা করা পণ্য তারা আনতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু কাস্টম জোর করে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক দ্বিগুণ করে দিচ্ছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাদের অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। যে কারণে পরে এলসি দিতে পারছেন না। যার প্রভাব ভবিষ্যতে পড়বে।

তিনি বলেন, হয়রানি বন্ধ, বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবি করা ক্লিয়ারিং হাউস চালু হলে আমদানি রফতানি আরও বাড়বে।

জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দরের অধিকাংশ ক্রেন ও ফর্কলিফট অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের মালামাল খালাস প্রক্রিয়া। আমদানিকারকরা বন্দর থেকে সময়মতো তাদের পণ্য খালাস করতে না পারায় বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে পণ্যজট। বন্দরের গুদাম থেকে পণ্য বের করার পর নতুন পণ্য ঢোকাতে হচ্ছে। জায়গার এ সংকটের কারণে পণ্যবোঝাই ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে থাকছে দিনের পর দিন। ট্রাক থেকে পণ্য নামানোর অনুমতি মিললেও ক্রেন মিলছে না। ফলে জায়গা ও ক্রেন সংকটে বিপাকে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বন্দর ব্যবহারকারীদের মেশিনারিসহ ভারী মালামাল লোড-আনলোডের সময় দিনের পর দিন অপেক্ষা করে থাকতে হয় সিরিয়াল দিয়ে।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার শওকত হোসেন বলেন, ‘আমাদের উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যে আমদানি বেড়েছে। যে কারণে রাজস্ব আহরণ বাড়ছে। তাছাড়া আমদানি বাড়ানোর জন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা ব্যবসায়ীদের দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে তারা হয়রানি ছাড়া পণ্য আনতে পারেন। বেনাপোলকে আরও গতিশীল করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।’

এ ব্যাপারে যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান বলেন, অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি বেশি করে থাকেন। কেননা এসময় ব্যবসার জন্য ভালো সময় থাকে। বিশেষ করে গাড়ি আমদানি বেশি হয়ে থাকে। তাছাড়া কাস্টম শুল্কহার বাড়ানোর কারণে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলেও ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে সরকার শুল্কহার যৌক্তিককরণ করলে আমদানির হার আরও বাড়তে থাকবে।