প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

২০১৬-১৭ অর্থবছর: বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ৫ খাতের শেয়ার

 

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মিউচুয়াল ফান্ডসহ ১৯টি খাতের তিন শতাধিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল পাঁচটি খাতের শেয়ার। এগুলো হচ্ছে প্রকৌশল, ব্যাংক, ওষুধ ও রসায়ন, টেক্সটাইল এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। বছরজুড়ে এসব খাতের শেয়ার সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসই’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সদ্যসমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে প্রকৌশল খাতের শেয়ারে। বছর শেষে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। বিনিয়োগকারীদের আস্থা থাকার কারণে এর আগের অর্থবছরের মতো এবারও শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সমর্থ হয় এই খাতটি। গত বছর ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ অবদান ছিল এ খাতের কোম্পানির।  বছরজুড়ে এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয় ২৭ লাখ ৪২ হাজার ৬২৩ কোটি টাকার।

এরপরের অবস্থানে ছিল পুঁজিবাজারের শক্তিশালী হিসেবে চিহ্নিত ব্যাংকিং খাত। বছরের প্রথম দিকে এ খাতের কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকলেও বছরের শেষ দিকে তাদের উল্লেখযোগ্য হারে আগ্রহ লক্ষ করা যায়। বছর শেষে মোট লেনদেনে এ খাতের অবদান ছিল ১৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর এই এক বছরে এ খাতের শেয়ার লেনদেন হয় ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৫২ কোটি টাকার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতের অবস্থান ছিল তালিকায় পাঁচ নাম্বারে।

অন্যদিকে  ২২ লাখ ৯০ হাজার ১৯৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। বছরের বেশিভাগ সময়ই এ খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যায়। ফলে বছর শেষে মোট লেনদেনে এ খাতের অংশগ্রহণ হয় ১২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এছাড়া চতুর্থ অবস্থানে থাকা টেক্সটাইল খাতের লেনদেনে অবদান ছিল ১২

দশমিক ১৬ শতাংশ। এ খাতের শেয়ার কেনাবেচা হয় ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। এদিকে মোট লেনদেনে পঞ্চম অবস্থানে থাকা জ্বালানি ও শক্তি খাতের  অংশগ্রহণ ছিল ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। বছরজুড়ে এ খাতের কোম্পানির  ২০ লাখ ৮০ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, উল্লিখিত খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী। তাছাড়া শেয়ারহোল্ডাররা এসব খাতের কোম্পানি থেকে সন্তোষজনক লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন। তুলনামূলকভাবে এসব কোম্পানি বিনিয়োগ অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত। সে কারণে বিনিয়োগকারীদের পছন্দের তালিকায় থাকে এসব খাতের কোম্পানির নাম।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা ভালো মানের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে তাদের ঝুঁকি অনেকাংশ কমে যায়। তারা আগের চেয়ে সচেতন হচ্ছেন। সেই জন্য তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সচেতন হয়েছেন। যার প্রতিফলন দেখা গেছে এসব খাতের কোম্পানিতে।’