দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

২০১৯-২০ অর্থবছরে ডিএসইতে লেনদেন ৭৮ হাজার কোটি টাকা

শীর্ষে ওষুধ ও রসায়ন খাত

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: এক অর্থবছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট ৭৮ হাজার ২৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে ডিএসইতে এ লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে লেনদেনে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত।

ডিএসইর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট লেনদেনের ১৪ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা বা ১৯ শতাংশ ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানির অবদান। অর্থবছরের শেষ দুই মাসে এ খাতটির একক আধিপত্য ছিল। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল এ খাতের কোম্পানির শেয়ার, যার জের ধরে বছর শেষে এ খাতের অবস্থান হয় অন্য সব খাতের ওপরে। গত অর্থবছরে ৬৬ দিন পুঁজিবাজার বন্ধ ছিল। এ সময় তালিকাভুক্ত সিমেন্ট ও স্টিলের কিছু কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য খাতের সব কোম্পানির উৎপাদনসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিন্তু এ সময়ে সচল ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। ফলে বন্ধের পর পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হলে এ খাতের কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন বেড়ে যায়। এ সময় অন্য খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের চাহিদা ছিল না বললেই চলে, যে কারণে এগিয়ে যায় ওষুধ ও রসায়ন খাত।

এদিকে গত অর্থবছরে ওষুধ ও রসায়ন খাতের পরের অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাতের কোম্পানি। বছরজুড়ে এ খাতের কোম্পানির শেয়ার মোট লেনদেন হয় ১০ হাজার ১৮২ কোটি টাকার। মোট লেনদেনের ১৩ শতাংশের বেশি ছিল এ খাতের কোম্পানির অবদান। পরের অবস্থানে থাকা বিমা খাতের লেনদেনে অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। বছরজুড়ে এই খাতের মোট শেয়ার লেনদেন হয় আট হাজার ২২৫ কোটি টাকার শেয়ার। এর পরের অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। মোট লেনদেনে এ খাতের অবদান ছিল ১০ শতাংশের বেশি, টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ছিল আট হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এর পরে ছিল ব্যাংক খাতের অবস্থান। মোট লেনদেনে এই খাতের কোম্পানির অবদান ছিল আট দশমিক ২৩ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতের মোট ছয় হাজার ৪২১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

এছাড়া বিদায়ী অর্থবছরে মোট লেনদেনে বিবিধ খাতের কোম্পানির অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ছয় শতাংশ। অন্যান্য খাতের মধ্যে খাদ্য খাতের সাড়ে তিন শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ডের তিন দশমিক ১৩ শতাংশ, টেলিযোগাযোগ খাতের দুই দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের লেনদেনে অবদান ছিল দুই দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, গত অর্থবছরে পুঁজিবাজারে লেনদেনে খরা ছিল। চলতি অর্থবছরে এ অবস্থা আরও মন্দা হতে পারে। কারণ বাজার পতন ঠেকাতে শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যে কারণে দীর্ঘদিন থেকে বাজারে লেনদেন আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতির জন্যও লেনদেন থেকে বিরত রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। সম্প্রতি তাদের অংশগ্রহণ কিছুটা বাড়লেও মোটেও সন্তোষজনক নয়। ফলে করোনা পরিস্থিতি আরও দীর্ঘমেয়াদি হলে সহসাই লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, আগামী অর্থবছরের মোট লেনদেনে যার প্রভাব পড়বে।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক মো. শাকিল রিজভী বলেন, করোনা পরিস্থিতি এবং ফ্লোর প্রাইস দুটি বিষয়ই লেনদেন কমার জন্য দায়ী। তবে বিষয়টি নেগেটিভভাবে নেওয়ার কিছু নেই। ফ্লোর প্রাইস দেওয়া হয়েছে বাজারের পতন ঠেকানোর জন্য। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এটা নিশ্চয় থাকবে না। অন্যদিকে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে হচ্ছে সব সেক্টরের মানুষকে। এ দুই পরিস্থিতি ঠিক হলে বাজার ভালো হবে, লেনদেনও বাড়বে। তবে অপেক্ষা করতেই হবে।

একই প্রসঙ্গে ডিএসইর অন্য পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বাজারের এখন যে পরিস্থিতি রয়েছে, তার প্রভাব অবশ্যই চলতি অর্থবছরের লেনদেনে পড়বে। তবে করোনা পরিস্থিতি যদি দ্রুত অনুকূলে চলে আসে, তবে লেনদেন পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..