প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

২০১৯-২০ সালের মধ্যে বাজারে আমূল পরিবর্তন আসবে

নির্বাচন সামনে রেখে পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে কোনো কোনো মহল। তারা বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকতে বা বিনিয়োগ উঠিয়ে ফেলার জন্য গুজব ছড়াচ্ছে যে, সামনে শেয়ারের দাম আরও কমবে। কিন্তু চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আমাদের পুঁজিবাজার আন্তর্জাতিক মানের স্টক এক্সচেঞ্জে উন্নীত হতে যাচ্ছে। তারা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ডেরিভেটিফ, অপশন, বন্ড, করপোরেট বন্ড, আইপিওসহ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনায় সহযোগিতা করবে। হিউম্যান রিসোর্সকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। এর ফলে ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে আমূল পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে তারা বহির্বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে। তাই আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ডিএসইয়ের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক মো. রকিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুরশিদ কুলি খান।
মো. রকিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা দিয়েছে। শেয়ারহোল্ডার হিসাবে আমরা এখনও এ টাকা হাতে পাইনি। সরকার ক্যাপিটাল গেইনের ওপর পাঁচ শতাংশ কর ধার্য করেছে এবং শর্ত দিয়েছে পুঁজিবাজারে ওই টাকা তিন বছরে বিনিয়োগ করতে হবে। এতে আমরা সবাই একমত হয়েছি। কিন্তু এ টাকা পেতে একটু দেরি হচ্ছে। আমি এনবিআরের উদ্দেশ্যে বলব তারা যত তাড়াতাড়ি আমাদের টাকা দেবে, আমরা তত তাড়াতাড়ি সেই টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারব। বর্তমানে পুঁজিবাজারে এ টাকা বিনিয়োগ করলে তারল্য সংকট কিছুটা কমবে এবং বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের প্রতি আগ্রহী হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে কোনো কোনো মহল। তারা বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকতে বা বিনিয়োগ উঠিয়ে ফেলার জন্য গুজব ছড়াচ্ছে যে, সামনে শেয়ারের দাম আরও কমবে। চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে আমাদের পুঁজিবাজার একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টক এক্সচেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তাদের জ্ঞান, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ডেরিভেটিফ, অপশন, বন্ড, করপোরেট বন্ড, আইপিওসহ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনায় সহযোগিতা করবে। হিউম্যান রিসোর্সকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। এর ফলে ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে আমূল পরিবর্তন আসবে। পুঁজিবাজারের অনেক উন্নয়ন হবে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগকারী ও ভালো মানের কোম্পানি বাজারে আসতে উৎসাহিত হবে। বর্তমানে দেশে চীনের অনেক কোম্পানি এসেছে এবং ভবিষ্যতে আরও আসবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে তারা বহির্বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। তাই আমরা এদেশের অর্থনীতিতে ভালো একটি সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের জিডিপির গ্রোথ বর্তমানে সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ। এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আশা করি সামনে গ্রোথ আট শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।
মুরশিদ কুলি খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। এখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বোর্ড রয়েছে, যেখানে গভর্নর প্রতিনিধিত্ব করে এবং সবাই সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্তগুলো নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিচের লেভেলে যে বিভাগগুলো রয়েছে তাদের এনালাইসিসগুলো অনেক সময় বাস্তবভিত্তিক হয় না। আর তখনই সমস্যা হয়। আসলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য থাকে মানি মার্কেটের দিকে এবং পুঁজিবাজার তাদের কাছে একটি অংশ মাত্র। কারণ পুঁজিবাজারের জন্য আলাদা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের দিকে তেমন নজর দেয় না। তাদের যে পণ্যগুলো রয়েছে বিশেষ করে রেপো, সুদের হার নির্ণয়, সিআরআর প্রভৃতি বিষয় নিয়ে তারা বেশি ব্যস্ত থাকে। তবে পুঁজিবাজারের দিকে একেবারে নজর নেই এটা বলা যাবে না। কারণ পুঁজিবাজারের উন্নয়ন না হলে মানি মার্কেটেরও উন্নয়ন হবে না। এ দুটি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আমাদের বড় ব্যর্থতা হলো হাতেগোনা গুটিকয়েক ছাড়া আর কোনো বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি। সরকারি ও বহুজাতিক বেশকিছু ভালো কোম্পানি রয়েছে কিন্তু তাদের অন্তর্ভুক্ত করা যাচ্ছে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। আরেকটি দিক হচ্ছে ভালো মানের ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তুলতে আগ্রহী নাÑকারণ ব্যাংক থেকে তারা সহজেই ঋণ পায় এবং কোনো জবাবদিহিতা করতে হয় না। আর পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হলে বিভিন্ন জবাবদিহিতা করতে হয়। দেশে অনেক টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি রয়েছে তাদের একটি ছাড়া বাকিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। এসব কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে পুঁজিবাজারের গভীরতা আরও বাড়বে। দেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। এ উন্নয়নে দেশি-বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগ করছে। এ উন্নয়নে অনেক টাকার দরকার। কিন্তু আমাদের ব্যাংকগুলোর এত টাকা জোগান দেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারে আসতে হবে। আমরা পুঁজিবাজারের যে গুণগত পরিবর্তনের কথা বলছি আশা করি এ পরিবর্তন হবে। ব্যাংক ঋণের দিকে সবার ঝোঁক বেশি থাকায় দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে তারল্য সংকটে পরে ব্যাংকগুলো।

শ্রুতি লিখন: শিপন আহমেদ