Print Date & Time : 16 August 2022 Tuesday 3:42 am

২০২১ সালের চেয়েও দুর্বল অবস্থানে তুর্কি লিরা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: তুর্কি লিরার অবমূল্যায়ন হয় গত বছরের শেষের দিকে। তার চেয়েও বেশি পতন ঘটেছে চলতি মাসে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পতন ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অস্বাভাবিক আর্থিক নীতির ফলে এমন হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। খবর: রয়টার্স।

চলতি বছর পাঁচ মাসে মান কমেছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ বছর উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজে অবস্থানে রয়েছে এই মুদ্রা। তবে গত মঙ্গলবার ডলারের বিপরীতে কিছুটা উত্থান ঘটে এ মুদ্রার। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি দেখা যায়।

স্টকহোমের এসইবি এবি’র প্রধান উদীয়মান বাজার কৌশলবিদ পার হ্যামারলুন্ড বলেন, লিরার ওপর চাপ বাড়ছে। চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিপথগামী আর্থিক নীতি এজন্য দায়ী বলে জানান তিনি।

কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারের অস্থিরতার চ‚ড়ান্ত পরিণতি এই লিরার অবমূল্যায়ন, যা মুদ্রার আপেক্ষিক স্থিতিশীলতার একটি অবসান ঘটায়। সবচেয়ে ঝুঁকি হচ্ছে, লিরা আরও দুর্বল হতে পারে, দুই দশকের মধ্যে মূল্যস্ফীতি দ্রুততম হারে বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বসম্মতিক্রমে এই সপ্তাহে আবার সুদহার ধরে রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় ছোঁয়া লেগেছে তুরস্কে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের যুদ্ধ ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে যথেষ্ট শঙ্কিত করেছে। এই শঙ্কা থেকে তারা কয়েক দশক ধরে অনুসরণ করা নীতিগুলোর বিপরীত নীতি গ্রহণ করেছে এবং ন্যাটোয় অবিলম্বে সদস্যপদ পাওয়ার আবেদন করেছে। কিন্তু দেশ দুটির ন্যাটোতে যোগ দেয়ার পথে একেবারে অনাকাক্সিক্ষত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। দুই দেশের সঙ্গে তুরস্কের রাজনৈতিক মতপার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য হেলসিঙ্কি ও স্টকহোমের আঙ্কারায় প্রতিনিধি পাঠানোরও দরকার নেই। এরদোয়ান বলেছেন, তিনি দেশ দুটির সদস্যপদ লাভে কিছুতেই সম্মতি দেবেন না। এছাড়া গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস ওয়াশিংটনে তুরস্কের নাম না করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের অস্ত্র না বিক্রি

করে। এতে ক্ষুব্ধ এরদোয়ান জানিয়েছেন, গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি আর কখনও আলোচনায় বসবেন না।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমে যাওয়া, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, ন্যাটোসহ পশ্চিমা কয়েকটি দেশের সঙ্গে ক‚টনৈতিক সম্পর্কের অবনতি প্রভৃতি লিরার মান কমিয়ে দিয়েছে। একে ‘ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মোনেক্স ইউরোপ লিমিটেডের এফএক্স বিশ্লেষণের প্রধান সাইমন হার্ভে।

চলতি বছর তুরস্কের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি সব পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরের পর মুদ্রাস্ফীতির এ মাত্রা সর্বোচ্চ। এছাড়া গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে তুরস্কের মুদ্রা লিরার মান কমেছে ৪৪ শতাংশ।

গত বছর অর্থনীতি চাঙা করতে সুদহার কমানো নিয়ে তুরস্ক সরকারের পরিকল্পনার নানা সমালোচনা রয়েছে। তবু এ পরিকল্পনার পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। গত বছর নভেম্বরে তার এ অবস্থান ঘোষণার পর ১৫ শতাংশ কমেছে লিরার দর। গত সেপ্টেম্বর থেকে সুদহার কমাতে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চাপ দিয়ে আসছেন এরদোগান। এটিকেই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

এমন অনিশ্চয়তাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়েছেন। ফলে গত বছর লিরার দাম কমে প্রায় ৪৫ শতাংশ। এর মাধ্যমে এটি হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে নিন্মমানের মুদ্রার একটি। তা সত্তে¡ও নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন এরদোয়ান। তার যুক্তি, উচ্চ সুদহার মূল্যস্ফীতি কমায় না। নিজের এ দৃষ্টিভঙ্গি কয়েক বছর ধরে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রয়েছেন তিনি।