প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত

জনশুমারির প্রশিক্ষণ উদ্বোধনীতে অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত। এটা আমাদের কমিটমেন্ট। এ কাজটি করতে পারলে জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মূল জায়গায় স্পর্শ করতে পারব। জাতির প্রধান চাওয়া ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি। জাতির পিতা আমাদের ভৌগোলিক মুক্তি দিয়ে গেছেন কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তির কাজ তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি। এই সুযোগ আমরা তাকে দিইনি। আজকে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করছেন।

দেশের ষষ্ঠ জনশুমারির জন্য মাস্টার ট্রেইনারদের চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গতকাল অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। ডিজিটাল মাধ্যমে আগামী ১৫-২১ জুন সারাদেশে এ শুমারি অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

প্রবাস আয় বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্তম্ভের মতো কাজ করছে উলেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বছরেই এখন পর্যন্ত এসেছে ২১ বিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে প্রবাস আয় বেড়েছে। প্রবাস আয়ে প্রণোদনা দেয়ার কারণে আগে যেখানে গড়ে প্রতি বছর ১৪ বিলিয়ন ডলার আসত, এখন সেখানে বছরই না শেষ হতেই এখন পর্যন্ত এসেছে ২১ বিলিয়ন ডলার।

এ সময় তিনি জনশুমারি প্রসঙ্গে বলেন, জনশুমারিতে তথ্য দিলেই যে কর বা খাজনা দিতে হবেÑ এই ধারণা ভুল। এমন ধারণার কারণে কোনোভাবেই যাতে এ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মানুষের ভুল ধারণা ভেঙে দিতে হবে। তাদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য আনতে হবে। তাহলেই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পূরণ হবে। তিনি আরও বলেন, মানুষের ভুল ধারণার কারণে সুন্দর উদ্যোগটি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সবার দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে যেতে চায়। দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তাদের সেই চাওয়া পূরণে এরকম শুমারি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করছেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি কাজ করছেন। এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পূরণ হবে। দেশ নি¤œস্তর থেকে উচ্চ স্তরের দিকে যাচ্ছে। আমাদের সম্মান বেড়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে।

বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) সামসুল আরেফিন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম এবং  পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের পরিচালক দিলদার হোসেন এবং বিবিএসের উপসচিব ড. দীপঙ্কর রায়।

ভিডিও বার্তায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জনশুমারির তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য আনতে হবে। উন্নত দেশ গড়তে যার যার কাজ করে যেতে হবে। কোনো কাজই ছোট নয়। সব কাজেরই সমান মর্যাদা। তবে কাজের ক্ষেত্রে কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। করোনাসহ নানা কারণে দেড় বছর পিছিয়ে এখন জনশুমারি করা হচ্ছে। আগামী ১৫-২১ জুন মূল গণনার কাজ হবে। এতে সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হবে। তাহলেই বৃহৎ এই কর্মযজ্ঞ সফল হবে।

সামসুল আরেফিন বলেন, ডিজিটাল শুমারির ক্ষত্রে নিরাপত্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনশুমারিতে সংরক্ষিত এলাকা যেমন ক্যান্টনমেন্ট, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ যেকোনো নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তথ্য সংগ্রহকারীদের সহায়তা করতে হবে।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক  দিলদার হোসেন বলেন, আগামী ১৫-২১ জুন সারাদেশের মানুষ গণনা করা হবে। সেটি সফলভাবে শেষ করতে চার দিনের জন্য মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আগামী ২৮ মে এ প্রশিক্ষণ শেষ হবে। এতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সমন্বয়কারী কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। জনশুমারি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি স্মারক ডাকটিকিট উদ্বোধন করবেন এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুমারি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ, তথ্য এবং জিজ্ঞাসার তাৎক্ষণিক সমাধান পেতে বিবিএস সদর দপ্তরে একটি কল সেন্টার খোলা হয়েছে, যার নম্বর ০৯৬০২৯৯৮৮৭৭।