২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনবে অস্ট্রেলিয়া

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আগামী রোববার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হচ্ছে জলবায়ু-বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন ‘কপ-২৬’। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। এবার ২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বৈশ্বিক বৃহৎ কয়লা ও গ্যাস সরবরাহকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া। স্থানীয় সময় গতকাল দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, এ পরিকল্পনায় অস্ট্রেলিয়ার জ্বীবাশ্ম জ্বালানি খাত বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। খবর: বিবিসি, রয়টার্স।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বনেতাদের চাপে স্কট মরিসন জলবায়ু-বিষয়ক নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। কারণ কয়েক দিন আগেই জানা গেছে, কপ-২৬ সম্মেলনে যোগ দেবেন না মরিসন। তবে শেষ পর্যন্ত সম্মেলনে যোগ দিতে রাজি হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তার নতুন পরিকল্পনাকে অবাস্তব বলে মনে করেন অনেকে। কারণ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ২০৫০ সাল নাগাদ অস্ট্রেলিয়ার ৭০ শতাংশ প্রকল্পে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে হবে, যা অনেকটা অবিশ্বাস্য।

এদিকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান ও সৌদি আরব কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনাসহ নিঃসরণ হ্রাসের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্য ঘোষণা করেছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ সব বৈদ্যুতিক গাড়িতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা হবে। আর যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। আগামী ২০৬০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস (সিএফসি) নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ৪৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে হবে। আর ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। গ্লাসগো সম্মেলনেরও লক্ষ্য ২০৫০ মধ্যে তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হবে, যা বর্তমানে অনেক বেশি। এরই মধ্যে বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশ কার্বন নিঃসরণ নিট জিরোতে নামিয়ে আনার জন্য অঙ্গীকার করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার জলবায়ু পরিকল্পনায় বলেন, আগামী ২০ বছরে ‘কম নিঃসরণ প্রযুক্তিতে’ তার দেশ ২০ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের (১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেশি বিনিয়োগ করবে। যেমন মাটিতে কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি, সোলার এনার্জি ও সবুজ শিল্পায়ন উন্নয়নে এসব অর্থ ব্যয় করা হবে। 

তবে তিনি বলেন, স্বল্প মেয়াদে অস্ট্রেলিয়া আরও গ্যাস ব্যবহার করবে। অর্থাৎ গ্যাস ব্যবহার হ্রাস করবে না, যদিও এটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তার পরও দেশটি বলছে, জ্বীবশ্ম জ্বালানি সীমিত করবে না তার দেশ। তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের ভারী শিল্পগুলো খনির মতো উম্মুক্ত থাকুক এবং প্রতিযোগিতামূলক থাকুক।

কপ-২৬ নিয়ে আশা ক্ষীণ: এদিকে জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের গ্লাসগোতে একত্রিত হওয়ার কথা থাকলেও সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ চীনের প্রধানকে এ জমায়েতে দেখা যাবে না। এজন্য সম্মেলনের আশা ক্ষীণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিশ্বনেতাদের এ আলোচনায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য অনুপস্থিতির মানে হতে পারে, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদক দেশ এরই মধ্যে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, গত বছর তিনটি বড় প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর গ্লাসগোর এ সম্মেলনে এসে আরও ছাড়ের আশ্বাস দিতে পারছে না তারা।

এবারের জলবায়ু সম্মেলনে শি’র বদলে দেশটির উপ-পরিবেশমন্ত্রী ঝাও ইংমিন এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির শীর্ষ জলবায়ু দূত হিসেবে আবার নিয়োগ পাওয়া দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিয়ে ঝেনহুয়া চীনের নেতৃত্ব দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বেইজিংয়ে গ্রিনপিসের ঊর্ধ্বতন জলবায়ু উপদেষ্টা লি শুও বলেছেন, একটা বিষয় পরিষ্কার যে, ‘কপ-২৬’ সফল হওয়ার জন্য অন্য কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর পাশাপাশি চীনের উচ্চপর্যায়ের সমর্থনেরও দরকার হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী কার্বন ডাই-অক্সাইডের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস ভারত। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত বছর সবাইকে অবাক করে দেয়া এক ঘোষণায় শি ২০৬০ সালের মধ্যে চীনকে কার্বন নিরপেক্ষ দেশে পরিণত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..