প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

২০৫০ সাল নাগাদ পানির চাহিদা বাড়বে ৫০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের চার বিলিয়ন মানুষ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগে। এ অবস্থায় ২০৫০ সালের মধ্যে পানির চাহিদা আরও ৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত তিন দিনের ‘আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন-২০২১’ এর সমাপনী দিনে শুক্রবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্মেলনের শেষ দিনে ‘পানি ও জলবায়ু: তৃণমূল উদ্ভাবন এবং সমাধান’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূলের উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত সমাধানের ওপর জোর দেন নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা।

অর্তনৈতিক কর্মকান্ড, কৃষিক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পানির অপরিহার্যতার বিষয়টি উল্লেখ করে বৈশ্বিক মহামারি কভিড-১৯ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের জন্য পানির উৎসের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

তিনি বলেন, দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ভবিষ্যতে পানি এবং পানির উৎসই রাষ্ট্রীয় সংঘাতের কারণ দাঁড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক সালেমুল হক বলেন, বদ্বীপ আকৃতির বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশজুড়েই রয়েছে পানি। তবে, ধীরে ধীরে ভূপৃষ্ঠের ওপরে পানির উৎসব কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। এমনকি, খরাপ্রবণ রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল কৃষিকাজের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় আর এজন্য অপরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন সালেমুল হক।

কনফারেন্সে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ড রাষ্ট্রদূত নাথালি শিউআখ্ বলেন, পানি মৌলিক প্রাকৃতিক সম্পদ যা দুটি দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া অভিন্ন পানির উৎসগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনারও তাগিদ দেন নাথালি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নেপালের সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও শিক্ষাবিদ ডা. দীপক গাওয়ালী বলেন, স্থানীয় সম্প্রদায় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করেন। তৃণমূলে বাঁশ ও কাঠের তৈরি বাঁধ বা রাবার ড্যামের উদ্ভাবনকে পানির মতো প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য যথাযথ বলেও মন্তব্য করেন ডা. দীপক।

পানি সংকট নিরসনে চীন কিভাবে তৃণমূলের উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়েছে তা উল্লেখ করে তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক লিয়ান ঝিং বলেন, চীনে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তৃণমূলের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারেরউদাহরণ দিতে গিয়ে বাংলাদেশ পানি জাদুঘরের কথাও তুলে ধরেন লিয়ান। সেইসাথে, যে কোন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের আবিষ্কার ও উদ্ভাবনগুলোকে বিবেচনায় নেয়ার তাগিদ দেন চীনের এ গবেষক।